একজন কর্ম পাগল জনবান্ধব ইউএনও মাসুম রেজা


ফরিদপুর সদরে একজন নিরলস কর্মবান্ধব ইউএনও মাসুম রেজা

মোঃ ইনামুল হাসান মাসুম:
ফরিদপুর সদর উপজেলায় অদম্য এক ইউএনও ছুটে চলছেন গ্রাম থেকে গ্রামন্তর, যেখানে মেঠো পথ, বন্যা, ঝড়, নদী থেকে খোলা প্রান্তর খেলা করে প্রতিনিয়ত। এরই মাঝে রয়েছে সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলে ভরা ফরিদপুর সদর উপজেলা। এই উপজেলায় কর্মমুখর এক পরিশ্রমী ইউএনও মোঃ মাসুম রেজা কাজ করে চলছেন নিরলস ভাবে। উপজেলাটিকে তিনি তার মনের মাধুরী দিয়ে সাজিয়ে চলছেন দিন থেকে রাত অবধি।

তবে এক্ষেত্রে শুধু সদর উপজেলায় নয় ফরিদপুরের মাঠ প্রশাসনে প্রায় অধিকাংশ কর্মকর্তাগণ স্বগৌরবে তারুন্যেদীপ্ত হয়ে কাজ করছেন। সব সময় ছুটে চলছেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। “সুশাসনে গড়ি সোনার বাংলা” ছড়িয়ে দিতে অবিরাম গতিতে তাদের উদ্যম মনোদীপ্ততায় এগিয়ে চলেছে জেলা প্রশাসন ফরিদপুর। এসব স্বপ্নময় প্রশাসন ও শিক্ষামূলক বিভিন্ন সভা সেমিনারে আলোকিত জেলা গড়তে তাদের কন্ঠে প্রতিবাদী আওয়াজ তুলে যাচ্ছেন।
যাযাবর জীবনে যে যেখানে থেকেছেন সেখানেই তারা সৃষ্টি করেছেন নতুন মাত্রা। যে মাত্রায় আধাঁর কেটে আলোর মিছিলে জেগেছে সমাজ সভ্যতা।

এমনকি জেগেছে জনতা, ফিরে পেয়েছে আঁধার থেকে আলোর বার্তা। যে আলোয় জনসাধারণের প্রত্যাশা প্রশাসনের যাত্রায় তারা আজ ফরিদপুর জেলার গর্বিত অংশীদার। এ জেলার প্রধান অর্থকারী ফসল সোনালী আঁশ নিয়ে শ্লোগান “সোনালী আঁশে ভরপুর, ভালোবাসি ফরিদপুর” প্রতিপাদ্য নতুন মাত্রায় যোগ হয়েছে ফরিদপুর জেলা প্রশাসন। এমনি কথাগুলো ফরিদপুর জেলায় এসে নতুন মানুষ গুলো তাদের কর্মজীবন যাত্রার মাঝে ছড়িয়ে দিয়েছেন আপন মনে জনহিতকর প্রশাসন সেবার মাধ্যমে। চাকুরী জীবনে যাদের পৃথক পৃথক কর্মস্থলে কর্মজীবনে পথচলা। চাকুরী নামের আজ ঘরে ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে সরকারের নানামুখী প্রশাসন সেবা। যে সেবায় দুর্নীতির হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে হতদরিদ্র মানুষ। আজ তুলছি ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার একজন মানবিক ইউএনও’র কর্ম কাজের বীর যাত্রার ইতিকথা।

ঘড়ির কাটায় যখন সকাল ৯টা। ঠিক তখন খয়েরী রংয়ের পাজেরো গাড়ি এসে ভিড়লো ইউএনও’র কার্যালয়ে। গাড়ি থেকে নেমে সিড়ি বেয়ে দোতলায় যেতে যেতে পুরো অফিস অন্য এক গুঞ্জনে মুখরিত। বাইরে গুঞ্জন। ভিতরে চলছে গণশুনানী। উৎসুক মানুষের ভিড় বারান্দার রেলিং ঘেঁষে। বাদী বিবাদী একই কক্ষে বিভিন্ন প্রশ্নের প্রতিউত্তরে বিচারের হাকিমের সাথে। স্বল্প সময়ে সমাধান দিয়ে দুই পক্ষকে একসাথে মিল করে দিচ্ছেন তিনি। নানামুখী অভিযোগ আসে প্রতিনিয়ত। এটা কোনো উপন্যাসের গল্প নয়, ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসারের প্রতিনিয়ত বিচারিকসহ নানা বিষয়ের সেবা’র গল্প।

অফিসের কাজের বাইরে প্রতিদিন উপজেলার সাধারন মানুষের কথা শুনছেন নিজ কার্যালয়ে বসে। সপ্তাহের দুই তিন দিন চালিয়ে যাচ্ছেন হতদরিদ্র অসহায় প্রত্যন্ত পশ্চাদপদ তৃনমূল মানুষের বিচার ব্যবস্থা নামের কার্যক্রমের গণশুনানী। পুরো উপজেলা কে ঘোষনা করেছেন দুর্নীতি মুক্ত। গড়ে তুলেছেন একের পর এক জনবান্ধব উপজেলার বিভিন্ন দাপ্তরিক অফিস।

সাধারণ মানুষের বিভিন্ন সেবা দেয়ার পাশাপাশি আপন হাতে সাঁজিয়ে অদম্য সাহস নিয়ে গড়ে তুলছেন পদ্মা নদী বিধৌত ছোট সবুজ শ্যামলা এলাকা নর্থচ্যানেল, ডিক্রিরচর সহ সদর উপজেলাকে। প্রতিটি স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসায় অবাধ বিচরণ করে মাদক, বাল্যবিবাহ এর বিরুদ্ধে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলছেন তিনি। দিনরাত নিরলস ভাবে পরিশ্রম করে প্রতিটি কাজের জন্য হয়ে উঠেছেন অদম্য এক সাহসী মানুষ। মানুষের সাহায্য সহযোগিতায় এগিয়ে আসার কারনে ইতোমধ্যে পুরো উপজেলায় তার সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে। অসহায় হতদরিদ্র চরাঞ্চল বাসীর পাশে দাঁড়িয়েছেন দুর্যোগে।

রাষ্ট্রে সঠিক ক্ষমতায়ন ও অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সরকারের নীতি বাস্তবায়নে প্রশাসনে দৃঢ়তার সঙ্গে কাজ করছে ইউএনও মাসুম রেজা। যে কারনে আজ তিনি হয়ে ওঠেছেন অভিন্ন। সম্পূর্ণ প্রচার বিমুখ, উদার ও সাদা মনের মানুষের মর্যাদা তথা মানুষের উন্নয়নের অদম্য অগ্রযাত্রায় তিনি আজ একজন আলোর মুখচ্ছবি।

একজন শিক্ষাবান্ধব ব্যক্তিত্ব হিসেবে উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় গুলোতে বিভিন্ন সময়ে পদার্পন করেন। বিদ্যালয়ে কোমলমতি শিশু শিক্ষার্থীর গুনগত মান এবং লেখা পড়ার জন্য মানসম্মত বিদ্যাপীঠ গড়ে তোলার নানা কার্যক্রম শুরু করেছেন ইতোমধ্যে এই ইউএনও মাসুম রেজা। নিয়ম মাফিক চলছে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম। ক্লাশের পড়া ক্লাশে নিশ্চিত করার ফলে প্রাইভেট নামের কোচিং বানিজ্য বন্ধ করার পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। সদর উপজেলার অজপাড়া গাঁয়ের শিশুদেরকে শিক্ষিত করার লক্ষ্যে এবং সমাজে আদর্শ মানুষ হয়ে মাথা উঁচু করে দাঁড়াবার সিঁড়ি হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন তিনি অবিরত।

মাদক নিয়ন্ত্রনে সাহসী পদক্ষেপের জন্য ইতোমধ্যে মাদকসেবীদের আতঙ্কের নাম আজ তিনি। উপজেলার বিভিন্ন সভা সেমিনারে, বিদ্যালয়ে অভিভাবক সমাবেশ করে মাদক থেকে নিরাপদ পরিবেশে শিক্ষার্থীকে নেওয়ার জন্য অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের পাঠ করানো হচ্ছে মাদক কে না জানিয়ে শপথ বাক্য। “মাদক নয়, চাই নিরাপদ জীবন” শ্লোগানে আজ মুখরিত সদর উপজেলার বিদ্যাপীঠ। এই উপজেলার বেশ কিছু মাদকসেবীকে ইতোমধ্যে বিভিন্ন মেয়াদে জেল জরিমানা করে পাঠিয়েছেন কারাগারে।
প্রতিটি ইউনিয়ন পরিষদে মেয়েদের জম্ম নিবন্ধন দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কবার্তা দিয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান, সদস্য ও উদ্যোক্তাদের। সঠিক বয়স না হলে মিলছে না এখন আর বাল্যবিয়ের সনদ।

মাসুম রেজা সদর উপজেলায় ইউএনও হিসেবে যোগদান করার পর থেকে প্রায় অর্ধশতাধিক বাল্যবিয়ে বন্ধ করেছেন সাহসী দক্ষতার সাথে। বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ গ্রহন করার ফলে ফরিদপুরে বাল্যবিয়ে নামের অভিশাপ থেকে মুক্ত পাচ্ছেন বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। ইউএনও বাল্যবিয়ের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে থাকার ফলে পুরো উপজেলার মধ্যে “বাল্যবিবাহ” নামের শব্দটি নেমে এসেছে প্রায় শূন্য কোঠায়।

দুর্নীতি কে না জানিয়ে তার অফিস ও উপজেলার প্রতিটি অফিসে দিয়েছেন বিশেষ সতর্কবার্তা। অফিস গুলো সুষ্ঠ সুন্দরভাবে চলছে কিনা তা নিজেই বিভিন্ন সময়ে দেখভাল করার জন্য হাজির হন বিভিন্ন দপ্তরে। ইউএনও’র এ অভিনব পদক্ষেপে বদলে গেছে উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরগুলোর চিত্র। অসহায় মানুষ উপজেলায় এসে পাচ্ছেন এখন কাঙ্খিত সেবা। প্রতিটি দপ্তরে এখন সেবার জন্য হাহাকার করতে হয় না ভুক্তভোগী মানুষের।

গ্রামীন জনগোষ্ঠীর দুস্থ ও অসহায় ব্যক্তিদের বিচার ব্যবস্থার জন্য বাংলাদেশ সরকারের ইউনিয়ন পরিষদে গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পের মাধ্যমে সদর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে গ্রাম আদালতের কার্যক্রম বিস্তৃত রয়েছে। সাধারণ মানুষ এখন আর কোর্ট যেতে চায় না। ছোট খাটো বিরোধ নিষ্পত্তি হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদে। এর পুরোটাই দেখভাল করছেন ইউএনও মোঃ মাসুম রেজা। এ ব্যাপারে কানাইপুর গ্রাম আদালত উপজেলা সমন্বয়কারী মোঃ আমানুল্লাহ্ বলেন, গ্রাম আদালতে সাধারণ মানুষ কেমন সেবা পাচ্ছে বা আদালতে তারা অগ্রসর কিনাসহ পুরো কার্যক্রম ইউএনও স্যার তদারকি করেন। প্রতি মাসে তিনি মাসিক সভা করেন। তিনি আরও জানান, সদর উপজেলায় এ পর্যন্ত ১২টি ইউনিয়নে অসংখ্য মামলা নিষ্পত্তিসহ জমি উদ্ধার ও নগদ টাকার ক্ষতিপূরন বাবদ ভুক্তভোগীদেরকে আদায় করে দেওয়া হয়েছে।

একজন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব হিসাবে তিনি এক সঙ্গীতের নাম। অপসংস্কৃতি দূর করে আজ সংস্কৃতির অঙ্গন গড়ে তুলেছেন নিপুন হাতের সু-তুলির আচড়ে। সংস্কৃতির বিদ্যাপীঠ শিল্পকলাকে আধুনিকায়নের কাজ হাতে নিয়েছেন। সরকারের নানামুখী সংস্কৃতি ছাড়াও স্থানীয় ভাবে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে আয়োজন করা হয় বাঙালীর সংস্কৃতি। হারানো গ্রামীন খেলাধুলা গুলো আজ ফিরে এসেছে তার মহৎ প্রচেষ্ঠায়।

সদর উপজেলায় সাধারণ মানুষের গনশুনানী ব্যবস্থা করার ফলে তৃনমৃল এলাকার গ্রাম্য শালিশের বলি থেকে পরিত্রান পাচ্ছে বিচারহীন অসহায়, নির্যাতিত, নিপীড়িত পরিবার গুলো। বিনা খরচে সুষ্ঠভাবে তার কার্যালয় থেকে পাচ্ছে বিচার ব্যবস্থা। অফিসের কার্যক্রমের সাথে সাথে নিজেই চালাচ্ছেন গনশুনানী।

ভিক্ষুক নিরসনে ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম হাতে নিয়েছেন। সদর উপজেলাকে ভিক্ষুক মুক্ত করতে ও প্রকৃত ভিক্ষুকদের নাম ঠিকানা সংগ্রহ করছেন। উপজেলার প্রতিটি দপ্তরের সরকারি কর্মচারিদের একদিনের বেতন দিয়েছেন ভিক্ষুকদের জীবনমান উন্নয়নে। “আর নয় ভিক্ষা প্রবৃত্তি, জীবন হবে স্ব-নির্ভর গতি” ধারায় তাদেরকে গড়ে তোলা হবে স্বাবলম্বী করে।

আইন শৃঙ্খলা শান্তিতে প্রতীয়মান রাখতে বিশেষ অবদান রয়েছে তার। পদ্মা নদের বিধৌত অঞ্চলে উন্নয়নের শতভাগ পদযাত্রা না থাকলেও শতভাগ শান্তিপ্রিয় উপজেলা হিসাবে দেশের মধ্যে অন্যতম ফরিদপুর সদর উপজেলা। এই গণনা আশির দশক থেকে আজও অবধি এখানে যারা চাকুরী করে গেছেন তাদের থেকে জানা। উপজেলার শান্তি ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ অবদান রেখেছেন সদা সর্বদা।

গত ২০১৯ সালের জুলাই মাসের ৮তারিখে ইউএনও হিসেবে যোগদান করেন মোঃ মাসুম রেজা ফরিদপুর সদর উপজেলায়। এরপর প্রতিটি দপ্তরের সাথে আলাপ চারিতা শুরু করেন। একের পর এক নতুনত্ব যোগ করতে জনসেবায় মাঠ প্রশাসনে কাজ করেন তিনি। এরপর সরকারের নানামুখী উন্নয়ন কাজের পরিদর্শনে ছুটে যান গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। লোক থেকে লোকারণ্যে, চর থেকে চরাঞ্চলে। আপন হাতে গড়ে তোলেন একটি দক্ষ “টিম সদর উপজেলা”। প্রতিটি টিম সদস্যদের দুর্বার গতিতে আজ পাল্টে যাচ্ছে প্রশাসন ব্যবস্থা।

সদর উপজেলার মাঠ প্রশাসন কর্মে যাঁর বিশেষ অবদান সে ইউএনও মোঃ মাসুম রেজা। তার অবদান ফরিদপুর সদর উপজেলায় স্বরণীয় হয়ে থাকবে। তিনি কেবল একজন ইউএনও নন, তিনি একজন স্বামী, একজন আদর্শ বাবা, একজন মানবিক অফিসার। এ সব কিছুই একজন রুচিসম্মত দক্ষ অফিসারের গতানুগতিক উপাধি। কিন্তু সব কিছু ছাড়িয়ে কয়েক লক্ষাধিক জনগোষ্টীর অভিভাবক হয়ে ওঠা অনেক অফিসারের পক্ষেই সম্ভব হয়ে ওঠে না। কিন্তু তিনি পেরেছেন।

সকলের মাঝে হয়ে ওঠা আজ এক অসাধারণ গল্পের মানুষ তিনি। ফরিদপুর জেলার সদর উপজেলায় জনবান্ধব প্রশাসন গড়ায় মহীয়সী ব্যক্তিত্ব মাসুম রেজার এ ভূমিকা আজ রাজনৈতিকসহ সর্ব মহলে প্রশংসিত।

ফরিদপুর-৩ আসনের সাংসদ সদস্য আলহাজ্ব ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন এমপি মহোদয় তার এক বক্তব্যে ইউএনও মাসুম রেজা প্রসঙ্গে বলেন, আমি চ্যালেঞ্জ দিয়ে বলতে পারি আমার সদর উপজেলার মধ্যে সেরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার। প্রতিটি কাজ তিনি দক্ষহাতে পরিচালনা করেন। প্রশাসনে রাজনীতি নয়, উন্নয়নের জন্য প্রশাসন।

সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা বলেন, ‘আমার উপজেলাতেই প্রশাসনের দায়িত্বে আছেন তিনি। খুবই দায়িত্বশীল ও কর্মঠ। সরকারের রুটিন কাজকর্ম থেকে উন্নয়ন সবই সে নিপুণ হাতে দক্ষতার সঙ্গে করে যাচ্ছেন। তাঁর সঙ্গে কাজ করে খুবই স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছি। মাদক, বাল্যবিবাহ, দুনীর্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে তিনি কাজ করছেন।

এ জন্য উপজেলার চরাঞ্চলবেষ্টিত স্কুলের ছাত্র-ছাত্রীদের প্রতি বিশেষ ব্যবস্থা করেছেন তিনি। প্রাথমিক বিদ্যালয়ে মানসম্পন্ন শিক্ষা ও ঝরে পড়া রোধে দিনরাত কাজ করছেন।

সদর ইউএনও মোঃ মাসুম রেজা বলেন, আমার উপজেলায় ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে ৩টি পদ্মা নদ বেষ্টিত। চরাঞ্চলের অসহায় হতদরিদ্র মানুষের সেবায় সব সময় কাজ করে যাচ্ছে আমাদের উপজেলা টিম সদর ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন তরুছায়া ফাউন্ডেশন। চরের কমিউনিটি ক্লিনিকগুলো আরো সেবামুখী করার চেষ্টা চালাচ্ছি। এসব কাজে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ সাধারণ মানুষ আমাকে অনুপ্রাণিত করছে। কাজ করতে গিয়ে কখনো মনে হয়নি আমি একজন ইউএনও। বড় কোনো সমস্যাতেই পড়েননি তিনি। সব কিছুকে সাজিয়ে গুছিয়ে প্রতিনিয়ত একটি আলোকিত ও একটি মডেল উপজেলা হিসাবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাচ্ছি। তিনি আরও বলেন, মুজিববর্ষ উদযাপন, উপজেলার ভৌত অবকাঠামোগত উন্নয়ন, উপজেলার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয় গুলোর সঠিক পদক্ষেপ গ্রহণ সহ এছাড়া সরকারি খাস জমি, অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধের কঠোর ব্যাবস্থা গ্রহন করেছি। আমি মাদক, বাল্যবিবাহ, দুর্নীতি, ইভটিজিংসহ সামাজিক অপরাধ গুলোর উপর বেশী গুরুত্ব দিয়েছি । এছাড়াও সরকারের প্রতিটি প্রকল্প সঠিক ভাবে দেখাশোনা শুরু করি নিজেই। একজন অদম্য ও জনবান্ধব ডিসি প্রসঙ্গে বলেন, আমাদের শ্রদ্ধেয় জেলা প্রশাসক জনাব অতুল সরকার স্যারের সঠিক দিক নির্দেশনায় অনুপ্রানিত হয়ে সাহসিকতার সাথে জনসেবায় কাজ করে যাচ্ছি।