এক অভিশাপের নাম বাল্যবিবাহ – শাহ্ মোঃ সজীব, সহকারী কমিশনার (ভূমি)


একটি সুস্থ জাতি পেতে প্রয়োজন একজন শিক্ষিত মা, বলেছিলেন প্রখ্যাত মনিষী ও দার্শনিক নেপোলিয়ন বোনাপার্ট। সত্যিকার অর্থেই মার ব্যক্তিত্ব ও বুদ্ধিমত্তা দেখেই গড়ে ওঠে শিশু। মা-ই শিশুর প্রথম শিক্ষক। আর সেই মা নিজেই যদি হয় শিশু তাহলে কি হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়। অথচ আজ এই একুশ শতকে এসেও বাংলাদেশের ৬৬% মেয়ে এখনো শিক্ষা থেকে বঞ্চিত যার প্রধান কারণ বাল্যবিবাহ । আগামী প্রজন্মের সুস্থভাবে বেড়ে উঠা এবং সুনাগরিক হিসেবে গড়ে উঠতেও বাল্যবিবাহ একটি বড় বাধা। আর দুঃখজনক হলেও সত্য কিছু অসচেতন মানুষ নিজের লিপ্সা চরিতার্থ করতে বাল্যবিবাহকে উৎসাহিত করে। সত্যিই অবাক করার মত বিষয়!

কিছু তথ্য যা দেখলে মাথা ঘুরে যাবে…

১. জাতিসংঘ শিশু তহবিল (ইউনিসেফ) কর্তৃক প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে ১৮ বছরের আগে ৬৬ শতাংশ মেয়ে এবং একই বয়সের ৫ শতাংশ ছেলের বিয়ে হচ্ছে । মাঠপর্যায়ে দেখা গেছে – মাত্র এক হাজার টাকার দেনমোহরে বিয়ে হচ্ছে এই সব সুবিধা বঞ্চিত মেয়েদের যাদের বয়স ১২ থেকে ১৬ বছরের মধ্যে। কিছু ক্ষেত্রে দেখা গেছে – কোন দেন মোহরই ধার্য করা হয়নি এমনকি বিয়ের রেজিষ্ট্রেশনও করা হয়নি। কোন কোন ক্ষেত্রে বড় অংকের যৌতুক দাবী করছে স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির পরিবার।
২. ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ১০-১৯ বছর বয়সের দুই তৃতীয়াংশ কিশোরী বাল্য বিবাহের শিকার হয় ।
৩. সেভ দ্যা চিলড্রেন এর ২০১০ সালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের ৬৯ শতাংশ নারীর ১৮ বছর বয়স হওয়ার আগেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে ।
৪. জাতীয় কন্যা শিশু অ্যাডভোকেসি ফোরাম এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে বাল্য বিবাহের হার ২০০৯ সালে ছিল ৬৪ শতাংশ, যা ২০১১ সালে এসে দাড়িয়েছে ৬৬ শতাংশে।
৫. বাংলাদেশ ডেমোগ্রাফিক এন্ড হেলথ সার্ভে এর তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে নারীর বিয়ের গড় বয়স ১৫ বছর ৩ মাস ।
৬. ইউনিসেফের পাপ্ত তথ্য মতে দেশে আঠারো বছর পূর্ন হবার আগে বিাহের হার ৬৬% এবং ১৫ বছরের আগে বিবাহের হার ৩২%।
৭. বাংলাদেশে গর্ভবতি নারীদের মধ্যে ৫৭% বয়স উনিশ এর নিচে। বাল্য বিয়ের কারনে ৪১% মেয়ে স্কুল ত্যাগ করে।

এই সাতটি তথ্যই আপনার মত মনগড়া নয়। এটা নামজাদা গবেষকরা গবেষণা করে বের করেছেন। আই রিপিট এটা নামীদামী সংস্থার প্রতিবেদন।
আরো দুঃখজনক হলো, এদেশে কিছু পুরুষ অল্পবয়সী নাবালিকা কন্যার প্রতি বেশ আগ্রহী। কনে হবে অনেক ছোট। আহা! কি আনন্দ। নিজের বয়স ৩২ বছর। কনের বয়স ১৩. আহা। অথচ সাবালিকা যথেষ্ট মেয়ে থাকলেও সে খুঁজে বের করে কচি বয়স! ছি! বিকৃত মানসিকতা। মনে রাখবেন, বিবাহ কোন ছেলে খেলা নয়! আপনি যাকে খুশি তাকে বিয়ে করে ফেলবেন। আর মনস্তাত্ত্বিক মিলেরও একটা বিষয় আছে। আরো মজার বিষয় হলো, এসব নাবালিকা কনেরাই বিয়ে করতে চায় না। তাদের জোর করে বিয়ে দেয়া হয় যা সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন। বেশিরভাগ সময়ই নাবালিকা নিজের বিয়ে নিজেই ভাঙ্গে। সে বিয়ে করতে শারিরীক ও মানসিকভাবে প্রস্তুত নয়।

বাল্যবিবাহের প্রধান কুফল:
১. নারী শিক্ষার অগ্রগতি ব্যাহত হওয়া ছাড়াও বাল্যবিবাহের কারনে মাতৃমৃত্যুর ঝুঁকি বৃদ্ধি পাচ্ছে৷ মা হতে গিয়ে প্রতি ২০ মিনিটে একজন মা মারা যাচ্ছেন। বুঝতে পারছেন? পারবেন ঐ মেয়েকে ফিরিয়ে দিতে? আপনার তো সমস্যা নেই। আরেকটা কচিকে বিয়ে করে ফেলবেন। আফসোস! কি বিকৃত চিন্তা!
২. প্রতি ঘন্টায় মারা যাচ্ছে একজন নবজাতক৷ নবজাতক বেঁচে থাকলেও অনেক সময় তাকে নানা শারীরিক ও মানসিক জটিলতার মুখোমুখি হতে হয়৷ একজন প্রতিবন্ধী শিশুকে লালন পালন করা কত কষ্ট আন্দাজ করেছেন কখনো? অথচ ওর মাই শিশু।
৩. অপ্রাপ্তবয়স্ক মা প্রতিবন্ধী শিশু জন্মদান করতে পারে৷
৪.বাল্যবিবাহের ফলে বিবাহ বিচ্ছেদের আশংকা তৈরী হওয়া ছাড়াও নানা পারিবারিক অশান্তি দেখা দেয়৷ ছোট মেয়ে ও সংসারের কি বোঝে!!
৫. বাল্যবিবাহ শুধু ব্যক্তিগত ক্ষতি করে না, পারিবারিক, সামাজিক এবং সর্বোপরি রাষ্ট্রের ক্ষতিসাধনেও সহায়ক হয় । যেমন, শিক্ষার আলো এবং স্বাস্থ্যগত কারণে অল্প বয়সের মেয়েটি তার নিজের সম্পর্কে সচেতন নয়, সুতরাং পরিবার সম্পর্কে তার ধারণা না থাকায় স্বাভাবিক বিষয়।

বাল্যবিবাহের প্রভাব:
১. স্বামী, সংসার, শ্বশুরবাড়ির সম্পর্কে বুঝে উঠার আগেই সংসার এবং পরিবারের ভারে আক্রান্ত হয়। অন্যদিকে শ্বশুরবাড়ির থেকেও তার উপর চাপের সৃষ্টি হয়, শুরু হয় অশান্তি, পারিবারিক কলহ, এবং সর্বোপরি পারিবারিক নির্যাতন।
২. এই পারিবারিক নির্যাতনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ শিকার হয় পরিবারের সবাই, বিশেষ করে শিশুরা ভোগে নানা মানসিক অশান্তিতে ।এতে তাড়া লেখাপড়ায় অমনোযোগী হয়, পরিবারের প্রতি জন্মে নানারকম অনীহা, ফলে তাড়া পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নানারকম অনৈতিক কাজের সাথে জড়িয়ে পড়ে। বাল্য বিবাহের শিকার ছেলে ও মেয়ের শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিনোদনের মত মৌলিক মানবাধিকার লংঘিত হয়, যা তাঁকে তার সারাজীবনের জন্য ক্ষতিগ্রস্থ করে।
৩. বাল্য বিবাহ একদিকে আইন এবং সংবিধানের লংঘন, অন্যদিকে বাল্যবিবাহের বর ও কনেকে তার ব্যক্তি স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত করা হয়।
৪. অপরিনত বাড়ন্ত পুষ্ঠিহীন শরীরে বেরে উঠে আরেকটি অনাগত ভবিষ্যত অপুষ্ঠিগত অভিশাপের বোঝা নিয়ে। জন্ম দিবে কিছুদিন পর আরেকটি অপুষ্টিতে আক্রান্ত প্রজন্ম। বেড়ে চলে মা ও নবাগত শিশুর জীবনের ঝুঁকি।

বাল্যবিবাহের কারণ:
১. যারা বাল্য বিবাহে ইচ্ছুক তারা যে কোন উপায়ে জন্ম নিবন্ধনে মেয়ের বয়স টাকার বিনিময়ে বৃদ্ধি করে নেয় ।এর ফলে আইনানুগ ব্যবস্থাও নেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে ।
২. এক্ষেত্রে কিছু কাজীও দায়ী থাকে এবং এরা মেয়ের বয়স বৃদ্ধি দেখিয়ে বিয়ে দিতে বর এবং কনে পক্ষকে সহায়তা করে।
৩. সাধারনত মেয়েদের অর্থনৈতিক অবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে বাল্যবিবাহে উৎসাহিত করে ছেলেদের পরিবার।
৪: কখনও কখনও তাড়াতাড়ি বিয়ে দেওয়ার প্রবনতা থেকেও বাল্যবিবাহের দিকে ঝুকে পড়ে গ্রাম্য পরিবারগুলো। উল্লেখযোগ্য এই কারনগুলো ছাড়াও আরও অনেক কারনেই বাল্যবিবাহ দেওয়া হচ্ছে।
৫. অসচেতনতা ও কুসংস্কারই বাল্যবিবাহের প্রধান কারণ। বিয়ে দিয়ে দিলে আর খরচ নাই। আরে পাগলা ওতে আরো খরচ বাড়ে। আগে তে শুধু মেয়ে ছিল। এখন জামাই আসবে, তার পুরো বংশ। তারপর অসুস্থ বাচ্চা কাচ্চা। যৌতুকের দাবী। জীবন তো শেষ হয়ে যাবে। আর তালাক হলে মেয়ে আবার নিজের ঘরে। সাথে ছোট বাচ্চা।

আইনি কাঠামো:
বাল্যবিবাহ বন্ধ করার ইতিহাস নতুন নয়। ব্রিটিশ সরকার প্রথম প্রবর্তন করে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ১৯২৯. এর ধারাবাহিকতায় বর্তমান সরকার প্রবর্তন করে বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭। এতে ২২ টি ধারা আছে পড়ে দেখেন। এই আইনটি মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ এর তফশিলভূক্ত। বিজ্ঞ এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক পরিচালিত মোবাইল কোর্টের সফলতায় বাল্যবিবাহ অনেকক্ষেত্রেই বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে। আর একটি কথা রাষ্ট্রের নাগরিক হিসেবে আইন মান্য করা প্রত্যেক নাগরিকের দায়িত্ব যা সংবিধানের ২১(১) নং অনুচ্ছেদে বলা আছে। সংবিধান রাষ্ট্রের মৌলিক আইন যা না মানা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সমান। এতে যথাযথ আদালতে নিয়মিত মামলাও হতে পারে।

এছাড়া বাল্যবিবাহ নিরোধে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, মহিলা ও শিশু বিষয়ক অধিদপ্তর, সমাজসেবা বিভাগ কাজ করেন। সরকার কিছু হটলাইনও চালু করেছে যেমন ৩৩৩, ১০৯, ৯৯৯. কল দিলেই সরকারি লোকজন পৌছে যাবে। এর বাইরে বিভিন্ন এনজিও, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন, সচেতন মানুষ, জনপ্রতিনিধিরা কাজ করে। একটা জিনিস ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করেন, বাল্যবিবাহ যদি ভাল কাজই হত তাহলে সরকার এত প্রতিষ্ঠানকে কেন নিয়োগ করলো? আপনার চাইতে সরকার কম বোঝে মনে করেন। আরে ভাই, আপনার দৌড় তো ফেসবুক পর্যন্তই শেষ। আর একটু গেলে ইউটিউব। তাই না জেনে মূর্খের মত মন্তব্য করবেন না। মানুষ হাসে তো। পারলে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করুন। না হলে চুপ থাকুন।

আরেকটা হাস্যকর দিক হলো, কিছু লোক বলে বাল্যবিবাহ দিলে নাকি ধর্ষণ কমে যাবে। তাদের কাছে জিজ্ঞাসা, ক) যারা বাংলাদেশে ধর্ষিত হচ্ছে তার সবাই কি ১৮ বছরের নিচে? খ) আর যারা বাল্যবিবাহ দিচ্ছে না তারা সবাই কি ধর্ষিত হচ্ছে? গ) বাল্যবিবাহ দিবেন না বলে আপনি এসে ধর্ষণ করে ফেলবেন? হাউ ফানি। ধর্ষণের সাথে বাল্যবিবাহের কোন সম্পর্ক নেই। তারপরও আপনারা বিভিন্ন মাধ্যমে গুজব বা উস্কানীমূলক বক্তব্য ছড়াচ্ছেন। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন, ২০১৮ রয়েছে ভুলে যাবেন না। সদাশয় সরকার আপনাদের অনেক সুযোগ দিচ্ছে। দয়া করে মনে শুদ্ধতা আনুন। আর এই লেখাটা বাল্যবিবাহ নিয়ে, তাই ধর্ষণ এর গভীরে আলোচনা করলাম না।

অনেকে আবার বাল্যবিবাহ বন্ধে কি বিচার হলো তা নিয়ে প্রশ্ন করেন। এটা কেন করা হলো! ওটা কেন করা হলো না। আদালতের সিদ্ধান্ত নিয়ে কথা বলার কোন সুযোগ নেই। এতে আদালত অবমাননা হয়। দন্ডবিধি, ১৮৬০ এ নিষেধাজ্ঞা আছে। আদালত অবমাননা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। আপনার কোন বক্তব্য থাকলে আপিল করতে পারেন। সংবিধানের ১০২ নং অনুচ্ছেদ মোতাবেক হাইকোর্টে রিট করতে পারেন। কিন্তু যা খুশি তা বলতে পারবেন না। কারণ জুডিশিয়াল অফিসারস প্রটেকশন আইন, ১৮৫০ অনুযায়ী বিচারকরা দায়মুক্তি পেয়ে থাকেন। তা না হলে তো কোন বিচারই করা যাবে না। রায় আপনার বিপক্ষে গেলেই বিচারককে ধরতেন। তাই আইন মোতাবেক কথা বলবেন, প্লীজ।

অনেকে আরেকটা যুক্তি দেখান, বাল্যপ্রেম বন্ধ করতে হবে। হ্যাঁ সেটা করেন। সেটা তো তার বাবা, মা, ভাই, বোন, চাচা, চাচী, ফুফু, শিক্ষকরাই করতে পারেন। আপনার সন্তানকে দেখে রাখার প্রাথমিক দায়িত্ব আপনার। আর বাল্যবিবাহ দিলে বাল্যপ্রেম (আপনাদের ভাষায়) বন্ধ হয়ে যাবে কে বলছে? দেখা যাবে এতে ও বিয়ের পরও পালিয়ে যেতে পারে। তাই অথর্ব যুক্তি দেখাবেন না।

অনেকে ধর্মের কথা বলেন। ধর্মের কোথায় বলা আছে তাড়াতাড়ি বিয়ে না দিলে ধর্ষণ করতে হবে। ফালতু কথা বলেন কেন। নাবালক মেয়েকে বিয়ে দিয়ে প্রায় মেরে ফেলো এটা কোন ধর্ম বলে! বলতে পারে? অযথা মানুষের মধ্যে গুজব ছড়ান কেন! ধর্মে তো কথা কাজই ফরজ করেছে। আর কিছু লোক আছে সব বাদ দিয়ে শুধু বিয়া ফরজ এটাই মানে। কি চতুর রে বাবা!

কেউ বলে বিয়ে ভেঙ্গে সাজা দিয়েছেন ভাল কথা। তা আবার পত্রিকার পাতায় কেন। আইনে আছে, বিচার শুধু করলে হবে না। বিচার মানুষকে দেখাতেও হবে। তাছাড়া আশেপাশের মানুষ যাতে এসব অপরাধীদের চিনতে পারে এজন্য দেয়া হয়। আর এটা করে সাংবাদিকেরা। তা না হলে তো পত্রিকার দরকার ছিল না। রাস্তা ভাঙ্গা তো পত্রিকায় আসবে কেন? এটা বলতে চান তো!! হাস্যকর। আর মানুষ হাসায়েন না।

কেউ কেউ বলে ইভটিজিং করে তাই বাল্যবিবাহ দিতে হবে। এটা আরো হাস্যকর। একটা প্রবাদ আছে, ভিক্ষার চাল কাড়া আর আকাড়া। যে টিজ করে সে সবাইকেই টিজ করে। বয়স কোন বিষয় নয়। আর এটা হলে আপনি সরকারের সাহায্য নিবেন। দন্ডবিধি, ১৮৬০ এর ৫০৯ ধারায় কঠোর সাজার কথা বলা আছে যা মোবাইল কোর্ট আইন, ২০০৯ অনুযায়ী বিচার্য। মাথা ব্যথা হলে ঔষধ খেতে হয়। মাথা কেটে ফেলতে হয় না। সবই তো বোঝেন। তাও কেন গুজব ছড়ান। ৩৩৩ বা ৯৯৯ এ কল দিলে ম্যাজিস্ট্রেট ও পুলিশ চলে আসবে। এছাড়া স্থানীয় চেয়ারম্যানকে জানান। ঐ বখাটে তো আপনাদেরই পরিচিত।

তাই আসুন মানব সমাজের এক অভিশাপ বাল্যবিবাহকে না করি। মেয়ের বয়স ১৮ না হলে ও ছেলের বয়স ২১ না হলে বিয়ে না দেই। আর যদি দেন তাহলে সরকার আপনার বাড়ি যাবে আর কি। শাস্তি পেতে হবে। ছেলে বা মেয়ে পড়ছে তাকে পড়তে দিন। সরকার তো পড়ার সব দায়িত্বই নিয়েছেন। তারপরও কোন আর্থিক সাহায্য লাগলে সংশ্লিষ্ট জেলা প্রশাসক ও ইউএনও মহোদয় এর সাহায্য নিতে পারেন। কোন সমস্যা নেই। আর সমাজের বিত্তবানরাও এখন অনেক সহযোগিতা করে। ১৯৭০ সালে আপনার মার ৯ বছর বয়সে বিয়ে হয়েছে বলে ২০২০ সালে এসে আপনার মেয়েকেও ৯ বছরে বিয়ে দিবেন এমন ধারনা ভুল। আপনার মা তো ফেসবুক চালাত না। আপনি তো চালান।
শেষ কথা, বিয়ে করতে যাওয়ার আগে ক্লাস ফাইভ বা যে কোন সনদ, এডমিট কার্ড, রেজিস্ট্রেশন কার্ড দেখে নিয়েন। না হলে হাতের রোস্ট পুরোটা শেষ হওয়ার আগেই হাতে হাতকড়া পড়তে পারে। বাসরের পরিবর্তে শ্রীঘর হতে পারে। ধন্যবাদ সবাইকে।

তথ্যসূত্রঃ বিভিন্ন ওয়েবসাইট।
১০ জুলাই, ফরিদপুর সদর।