কানাইপুরে জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষ-ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলা ও সরকারী গাড়ি ভাংচুর


জিল্লুর রহমান রাসেল, ফরিদপুর:

ফরিদপুর সদরের কানাইপুরে জমি দখল নিয়ে সংঘর্ষের জেরে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় হামলাকারীরা কানাইপুর বাজারে সরকারী কাজে নিয়োজিত জাইকা প্রজেক্টের ব্রীজ নির্মান কাজে পরিদর্শনে আসা রোডস এন্ড হাইওয়ের একটি মাইক্রোবাস ভাংচুর করে।

বৃহস্পতিবার (২৪ জুন ২০২১ইং) দুপুরে কানাইপুর বাজারে মোঃ এনায়েত ফকিরের সার ও কীটনাশকের দোকানে হামলা ও গাড়ি ভাংচুরের ঘটনা ঘটে। এই হামলায় ২জন সহ আগের দিন সংঘর্ষে উভয় পক্ষের কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়। আহতরা সকলে ফরিদপুর জেনারেল হাসপাতাল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দুপুরে সরেজমিনে গিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী সুত্রে জানা যায়, কানাইপুর ইউনিয়নের রনকাইল গ্রামে সালাম নামে এক ব্যক্তির একটি জমি দখল ও ফসল কাটা নিয়ে বুধবার দুপুরের দিকে দু’পক্ষের সংঘর্ষ হয়। এদিন সালাম তার জমির ফসল কাটতে গেলে কানাইপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সাংগঠনিক সম্পাদক কামরুল মাতুব্বর ও বিএনপি’র ইউপি চেয়ারম্যান প্রার্থী আলতাফ মাতুব্বরের নেতৃত্বে জমির মালিক দাবীকারী রনকাইল গ্রামের মুসাসহ ফজলু কাজী, আজম কাজী, জহুরুল কাজী, কামাল খা, কাইয়ুম, বতুসহ কয়েকজন গিয়ে বাঁধা দেয়। এর জের ধরে কামরুল মাতুব্বর ও আলতাফ মাতুব্বরের সমর্থকদের সাথে সালামের সমর্থকদের মধ্যে দেশীয় অস্ত্র-সস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষ হয়।

এ সময় কামরুল মাতুব্বর ও আলতাফ মাতুব্বরের সমর্থকরা সালামের সমর্থকদের উপর হামলা করে এবং রনকাইল গ্রামের নাপিতের মোড়ে সাকিল স্টোরে ভাংচুর ও লুটপাট করে। এ সংঘর্ষে সালামের সমর্থকদের মধ্যে ১০ জন এবং অপরপক্ষে ২ জন আহত হয়। এর সুত্র ধরে বৃহস্পতিবার দুপুরে কানাইপুর বাজারে ফকির মোঃ বেলায়েত হোসেনের ভাই এনায়েত ফকিরের সার ও কীটনাশকের দোকানে অস্ত্র ও লাঠিশোটা নিয়ে সন্ত্রাসী হামলা চালায় অন্য পক্ষের লোকজন।

এ সময় দোকানে থাকা ৭নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি লুৎফর ফকির, দোকানের ম্যানেজার নিরঞ্জন বাবু ও আইজদ্দিন নামে একজনকে লাঠিপেটা ও কুঁপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে। এছাড়া ঐ দোকানে থাকা ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলম খানের উপর হামলা করলে তিনি দৌড়ে পালিয়ে যান। পরে হামলাকারীরা কানাইপুর বাজারে জাইকার একটি ব্রিজের নির্মান কাজ পরিদর্শন করতে আসা রোডস এন্ড হাইওয়ের একটি গাড়িও ভাংচুর করে।

হামলার বিষয়ে ৪নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আলম খান এ প্রতিবেদককে বলেন, রনকাইল গ্রামে সংঘর্ষের বিষয়ে আমরা কিছুই জানতাম না। আমরা দুপুরে ঐ দোকানে বসেছিলাম। হঠাৎ করে ৮/১০ জন যুবক দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিশোটা নিয়ে হামলা করে।

এ সময় দোকানে ভাংচুর চালায় ও টাকা পয়সা লুট করে নিয়ে যায়। সন্ত্রাসীরা আমাকে মারার জন্য পিছু নেয়, পরে আমি দৌড়ে চেয়ারম্যানের বাড়িতে আশ্রয় নিই, যার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ আছে। আমি এ ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই।

এ বিষয়ে কানাইপুর ইউপি চেয়ারম্যান ফকির মোঃ বেলায়েত হোসেন বলেন, গতকাল রনকাইল গ্রামে একটি জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে বিরোধ হয়। আমি পুলিশ প্রশাসনের সহযোগীতায় মারামারিটা বাড়তে দিইনি। কোন হতাহত হওয়ার আগেই আমি ও পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে হাজির হয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনি। সময়মত পুলিশ হাজির না হলে হয়তো বড় কোন দুর্ঘটনা ঘটতে পারতো।

এ বিষয়টা রাতেই আমরা প্রশাসনের সাথে কথা বলে একটি মিমাংসার পর্যায়ে গিয়েছিলাম। কোতয়ালী থানার ওসিও আগামী শনিবার দুপক্ষের সাথে বসে মিমাংসা করে দিতে চান এবং ঐখানে একটি লিখিতও হয় যাতে পরবর্তীতে কোনো ঝামেলা না হয়। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ (বৃহস্পতিবার) ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মিনু মোল্যা বিএনপি’র নেতাকর্মীদের নিয়ে মোটরসাইকেল শোডাউন দিয়ে ঐ এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি করে এবং কানাইপুর বাজারে এসে আমার ছোট ভাইয়ের সারের দোকানে শহীদ, সুজন, তুষার, হাসিব, জাহিদুল, মিতুল, আসলাম, জাসু সহ ৮/১০ জন যুবক সন্ত্রাসী কায়দায় ভাংচুর ও লুটপাট করে, যার একটি সিসি ফুটেজও আছে। প্রকাশ্যে সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, এরা দলের পদপদবী দখল করে আওয়ামীলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে।

আরো দুঃখজনক যে সরকারী কাজে নিয়োজিত জাইকা প্রজেক্টের একটি গাড়িও ভাংচুর করেছে। আমি ফরিদপুরের প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষন করে বলতে চাই, সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে এই সন্ত্রাসীদের আইনের আওতায় আনা হোক।

তিনি আরো বলেন, ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মিনু মোল্যা বিএনপির লোকজন নিয়ে রনকাইল গ্রামে যায়। কিন্তু আওয়ামীলীগের ৮/১০ জন আহত হয়েছে তাদের দেখতে যায়নি। এটা অত্যন্ত দুঃখের বিষয়।

এ বিষয়ে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মিনু মোল্যা বলেন, কানাইপুর বাজারে হামলার বিষয়ে আমি কিছু জানিনা। সকালে আমি রনকাইল গ্রামে গেলে তখন আমার সাথে থাকা তানভীর নামে ছেলেকে মারধর করেছে। হয়তো ঐ ক্ষোভে হামলা চালাতে পারে।

মারামারির বিষয়ে আলতাফ মাতুব্বরের কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমার স্ত্রী অসুস্থ, আমি হাসপাতালে। এ বিষয়ে আমি কোন কথা বলতে পারবো না, সরি বলে বিষয়টি এড়িয়ে যান এবং ফোনের লাইনটি কেটে দেন।

এ বিষয়ে কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিল বলেন, তারা গতকাল রাতে মুচলেকা দিয়ে গেছে কোনো ঝামেলা করবে না। যেহেতু ঝামেলা হয়েছে, তারা অভিযোগ করলে মামলা হবে এবং আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *