ফরিদপুরে অসুস্থ বাবার ওষুধ কিনতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার কিশোরী ।। আটক-৪


স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুর শহরের গোয়ালচামট মহল্লার লাক্সারী হোটেল সংলগ্ন এলাকায় অসুস্থ বাবার জন্য ওষুধ কিনতে বেরিয়ে আসা ১৪ বছরের এক কিশোরী গণধর্ষণের শিকার হয়েছে।

এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুর সোয়া ১টার দিকে পাঁচ তরুণকে আসামি করে গণধর্ষণের অভিযোগ এনে কোতোয়ালি থানায় একটি মামলা করেছেন ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা। পরে পুলিশ ঘটনার সাথে জড়িত চারজন ধর্ষককে গ্রেপ্তার করেছে।

এর আগে গত ১১ আগস্ট সন্ধ্যারাতে এই গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। তবে বখাটে ধর্ষকদের হুমকির কারণে অসহায় ওই পরিবারটি আইনের আশ্রয় নেওয়াসহ কিশোরীর চিকিৎসা করাতে পারেনি। একপর্যায়ে ঘটনার আট দিন পর ভুক্তভোগী ওই কিশোরী হাসপাতালে ভর্তি হলে বিষয়টি পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়। এরপর বিষয়টিতে থানায় মামলা করা হয়।

গ্রেপ্তার কৃত আসামীরা হলো- শহরের গোয়ালচামট মোল্লাবাড়ি সড়কের বিহারী কলোনি এলাকার আসিবুর রহমান (২৪), ইমরান শেখ (২৪), পাপন শেখ (২৩) ও নান্নু শেখ (২৪)।

বর্তমানে গ্রেপ্তারকৃতদের থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। শুক্রবার (২১ আগস্ট) তাদের জেলার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে নিয়ে রিমান্ডের আবেদন জানিয়ে সোপর্দ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালের পরিচালক সাইফুর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, গণধর্ষণের শিকার ওই কিশোরী বর্তমানে হাসপাতালের লেবার ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শুক্রবার ওই কিশোরীকে ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) স্থানান্তর করা হবে।

মামলার এজাহারে বলা হয়, ওই কিশোরীর বাবা একজন অসুস্থ ব্যক্তি। গত ১১ আগস্ট মাগরিবের নামাজের পর ওই কিশোরী শহরের গোয়ালচামট মহল্লার লাক্সারী হোটেল সংলগ্ন এলাকায় তার বাবার জন্য ওষুধ কিনতে যায়। ওই সময় পাঁচজন তরুণ ওই কিশোরীকে জাপটে ধরে মুখ চেপে ধরে শ্রীঅঙ্গন এক নম্বর গলির মাথায় সন্তোষ সাহার বাড়ির পেছনের একটি ভিটায় নিয়ে যায়। এরপর আসিবুর রহমান ওরফে আপন, ইমরান শেখ ও পাপন শেখ সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত ওই কিশোরীকে ধর্ষণ করে। এই কাজে পাহারা দিয়ে ওই তরুণদের সাহায্য করে একই এলাকার নান্নু শেখ ও মালেক সরদার (২৪) নামে অপর দুই তরুণ। পরে কিশোরীটি অসুস্থ হয়ে পড়লে রাত ৯টার দিকে তাকে শ্রীঅঙ্গণ পুকুর পাড়ে ফেলে রেখে যায় বখাটেরা। ওই সময় বখাটেরা এই ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য নানা ভয়ভীতিও দেখায়।

জানা যায়: মুঠোফোনই সন্ধান দিল হত্যাকারীদের।

বিষয়টি নিশ্চিত করে ফরিদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) রাশেদুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, বুধবার (১৯ আগস্ট) ওই কিশোরী ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ (ফমেক) হাসপাতালে ভর্তি হলে জঘন্য ও মর্মান্তিক এই গণধর্ষণের ঘটনাটি পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়। পরে ওই তরুণীর সাথে কথা বলে বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন জায়গায় অভিযান চালিয়ে ঘটনার সাথে জড়িত চারজন তরুণকে গ্রেপ্তার করা হয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *