ফরিদপুরে আধুনিক চিকিৎসা সেবায় এগিয়ে রেজওয়ান মোল্লা জেনারেল হাসপাতাল


মোঃ ইনামুল হাসান মাসুম, ফরিদপুর:

ফরিদপুর সদর উপজেলার আওতাধীন টেপাখোলা এলাকায় অবস্থিত আধুনিক মানের চিকিৎসা সেবা কেন্দ্র রেজওয়ান মোল্লা জেনারেল হাসপাতাল। এখানে সাধারণ মানুষ এবং সমাজের পিছিয়ে থাকা জনপদের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কল্যাণে ও সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে সম্পূর্ণ অলাভজনক চিকিৎসা সেবা প্রতিষ্ঠান রেজওয়ান মোল্লা জেনারেল হাসপাতাল উদ্যোগ নিয়েছেন; যেখানে থাকছে দেশের সর্বাধুনিক পরিচ্ছন্ন ও মনোরম পরিবেশে চিকিৎসাসেবার সুযোগ এবং সংযুক্ত করা হচ্ছে উন্নত প্রযুক্তি।

সবুজ শ্যামল অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের দৃশ্য সমূহে; গাছ-গাছালির ফোকর গলে দূর থেকেই চোখে পড়ে দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো, সুরম্য ভবন। কাছে যেতেই পরিপাটি সাজানো-গোছানো আঙিনায় দেখা মেলে অ্যাম্বুল্যান্স গাড়ী। কেউ বাইরে থেকে ঢুকছে ভেতরে, কেউ বা বেরিয়ে আসছে ভেতর থেকে; কেউ রোগী, কেউ বা রোগীর স্বজন। মাথার ওপরে রৌদ্রোজ্জ্বল সাইনবোর্ডে বড় অক্ষরে লেখা ‘রেজওয়ান মোল্লা জেনারেল হাসপাতাল’। প্রধান ফটকের ভেতর পরিচ্ছন্ন লনে লোকজন দাঁড়িয়ে থেকে হাতের মোবাইল ফোন দিয়ে ছবি তুলছেন একের পর এক, কখনো বা তুলছেন সেলফি।

জানতে চাইলে তারা বলেন, ‘এইখানে এত সুন্দর, এত বড় একটি হাসপাতাল আছে তা আগে ভাবতেই পারিনি। এছাড়া এক মহিলা জানান, আমার ননদের বাচ্চা হয়েছে, তাই দেখতে এলাম। খুব ভালো লাগল, তাই ছবি তুলতে ইচ্ছে হলো। মনে হচ্ছে যেন বিদেশের কোনো হাসপাতাল। ’একটু থেমেই আবার বলেন, ‘আরো আশ্চর্যের ব্যাপার হচ্ছে, এত বড় ও বিশ্বমানের একটি হাসপাতালে চিকিৎসা ব্যায় যেন একেবারেই নামমাত্র। কেবিন ভাড়া, অপারেশন খরচ—সবই ব্যতিক্রম এবং অত্যন্ত সস্তা।’

৭ ফেব্রুয়ারী হাসপাতালের সম্মুখে অ্যাম্বুল্যান্স থেকে একজন বাইক এক্সিডেন্ট রোগী নামতেই হুইলচেয়ার নিয়ে এগিয়ে এলেন দুই কর্মী। যত্ন করে তাঁরা ওই চেয়ারে বসিয়ে ভেতরে ঢুকে যান রোগী নিয়ে; পেছন পেছন যান স্বজনরাও।

ভেতরে ঢুকে দেখা যায়, সুবিশাল ফাঁকা করিডরে করোনা সতর্কতার কারণে সবাই যতটা সম্ভব দূরত্ব মানার চেষ্টা করছেন, হাসপাতালের কর্মীরা তাঁদের সহায়তা করছেন। রোগী ও স্বজনদের কেউ দাঁড়িয়ে আছেন টিকিট কাউন্টারের লম্বা সারির শেষ মাথায়, কেউ বা ফার্মেসির সামনে সারিতে অপেক্ষা করছেন ওষুধ কেনার জন্য। আরেক পাশে শিশুরা খেলছে যে যার মতো। করিডরের বাঁ পাশে প্রসূতিসেবা বিভাগে রোগীদের ভিড় দেখা যায় কাচের স্বচ্ছ দেয়ালের ভেতর থেকে।

মোছাঃ সনিয়া আক্তার নামের একজন বলেন, ‘আমার পয়লা বাচ্চাটাও এইখানে হইছে। ফরিদপুরের অনেক বড় হাসপাতালের চাইতে এইখানে যেমন ভালো সেবা পাওয়া যায়, তেমনই চমৎকার ঝকঝকে-তকতকে পরিবেশ। কোথাও দেখেন একটু গন্ধ নেই, ময়লা নেই। খরচও খুবই কম। ’

পাশে বসা আরেকজন মোছাঃ সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, দূর থেকে অনেকে এত বড় হাসপাতাল দেখে ভয় পায়—যেন খরচ না কত বেশি! কিন্তু ভেতরে এসে যখন খোঁজ নেয় তখন সবাই আশ্চর্য হয়। সবারই ঘুরেফিরে প্রশ্ন, কিভাবে এত কম খরচে এত উন্নত সেবা দেওয়া হচ্ছে!

যেভাবে সেবা দেওয়া হয় রেজওয়ান মোল্লা জেনারেল হাসপাতালে একাধিক খ্যাতিমান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা পাচ্ছে এই হাসপাতালে আসা বিভিন্ন ধরনের রোগী; যাঁদের মধ্যে রয়েছেন হাসপাতালের পরিচালক ও বিশিষ্ট দন্ত বিশেষজ্ঞ ডাক্তার সৌদ মোঃ সালেহ, ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজওয়ান মোল্লা হাসপাতাল।

অন্যদিকে নিজস্ব অ্যাম্বুল্যান্স সুবিধা রয়েছে ২৪ ঘণ্টা; যেখানে রাত ৮টা থেকে সকাল ৮টা পর্যন্ত ডেলিভারির জন্য প্রসূতি নারীদের স্বল্প মূল্যে হাসপাতালে আনার ব্যবস্থা রয়েছে; আর ফরিদপুর শহরের মধ্যে যেকোনো জায়গা থেকে একেবারে অল্প টাকায় রোগী আনা-নেওয়া করা হয়।

রেজওয়ান মোল্লা জেনারেল হাসপাতালে আরো নতুন সংযোজন করা হচ্ছে, স্পেশালিস্ট কার্ডিয়াক সেন্টার। যেখানে থাকবে সি.সি.উ, আই সি ইউ (লাইফ সাপোর্ট), ক্যাথল্যাব ২৪ ঘন্টা ইমারজেন্সি সেবা, এনজিওগ্রাম, এনজিওপ্লাস্টি (হার্টে রিং পরানো) টেম্পোরারি ও পার্মানেন্ট পেসমেকার বসানো সহ সর্বাধুনিক এই প্রথম ইন্টারভেনশন কার্ডিওলজিস্ট ও কার্ডিওভাসকুলার (বাইপাস সার্জন) অভিজ্ঞ ডাক্তার দ্বারা পরিচালিত বিশ্বমানের হার্টের উন্নত চিকিৎসা এখন ফরিদপুরেই করা সম্ভব।

এছাড়া হাসপাতালের দক্ষিণ-পশ্চিম কর্নারে উন্নত মানের খাবার ও পরিবেশসম্মত ক্যাফেটেরিয়া অবস্থিত রয়েছে। রোগী ও স্বজনরা যাতে করে সহজেই প্রয়োজনীয় সব কিছু হাসপাতালের ভেতরেই পেয়ে যান, সেদিকে দৃষ্টি রেখেই এই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *