ফরিদপুরে কৃষকদের দুর্ভোগ কমাতে অবৈধ বাঁধ গুঁড়িয়ে দিল উপজেলা প্রশাসন


মোঃ ইনামুল হাসান মাসুম:
ফরিদপুর সদর উপজেলার আওতাধীন “ছোনপচা গ্রাম” বর্তমান বর্ধিত পৌরসভা এলাকা সরকারি খালের পানি কুমার নদীতে প্রবেশদ্বার জবর দখল করে বাঁধ দিয়ে ১০০ কৃষকের অধিক ২০ বিঘা জমির ফসলাদি ক্ষতি করা হচ্ছিল। এ ব্যাপারে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে শনিবার বিকালে বাঁধ ভেঙে দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এসময় খবর পেয়ে জোর পূর্বক দখলদার আইয়ুব আলী শেখ চনি (৬০), শাহিদ শেখ (৪০) নজরুল শেখ (৪৫) গং সকলেই পালিয়ে যায়।

এলাকাবাসী জানায়, ফরিদপুরের বর্ধিত পৌরসভা এলাকা ছোনপচা গ্রামের দুইটি কৃষি ফসলাদি উৎপাদনের মাঠ টানা বর্ষণে পানি বেড়ে যায়। দীর্ঘদিন ধরে মাঠের পানি কুমার নদীতে প্রবেশ করে। কৃষকদের উপর দাপট খাটিয়ে নিজেদের স্বার্থ হাসিল সহ বিভিন্ন সুবিধা ভোগের লক্ষ্যে অন্যায় ভাবে অত্যাচার করে আসছিলেন নজরুল গং।

এছাড়া ওই এলাকার প্রভাবশালীরাও একই কায়দায় দীর্ঘদিন বিশেষ সুবিধা হাসিল করে আসছিল। তাতে স্থানীয় কৃষকদের মাঠের ধান, পাটের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে এবং মেহগনি গাছের বাগানে আটকে থাকা পানিতে ডেঙ্গু মশার উপদ্রব সহ পরিবেশের নানাভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছিল। সর্বশেষ চলতি বর্ষা মৌসুমে টানা বর্ষণে এলাকার কৃষি জমিন প্রায় ডুবে গেলেও খালে জোর পূর্বক বাঁধ থাকায় পানি নামতে পারছিল না নিকটতম কুমার নদীতে। এ অবস্থায় এলাকাবাসী ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুম রেজার কাছে অভিযোগ জানায়।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, খালে বাঁধ দেওয়ার ঘটনায় একাধিক লোকজনের অভিযোগ পেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আজ শনিবার দুপুরে সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাহ্ মোঃ সজীবকে নির্দেশ দেন ছোনপচা এলাকায় গিয়ে কৃষকদের সুবিধার্থে এবং জবর দখলকারীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে। তিনি আনসার ব্যাটেলিয়নের একটি চৌকস টিম সঙ্গে নিয়ে বিকাল ৪ টায় ঘটনা স্থলে পৌঁছে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন এবং স্থানীয় লোকজন সহ ভুক্তভোগী কৃষকদের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে তাৎক্ষণিকভাবে আটকে থাকা বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা করেছেন। এছাড়া ঘটনা স্থলে ভ্রাম্যমাণ আদালত দোষী সাব্যস্ত ব্যক্তিদের উপস্থিতি না পেয়ে তাদের নাম ঠিকানা এবং মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করা হয়েছে।

স্থানীয় কৃষক শহিদুল ইসলাম বলেন, এই পানি আটকিয়ে রাখার জন্য আমাদের ফসলের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এসিল্যান্ড স্যার আমাগো অনেক বড় উপকার করেছে। নামীতে হলেও আমরা জমিতে এখন রওয়া ধানের চাষ করতে পারবো।

কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফকির মোঃ বেলায়েত হোসেন জানান, ছোনপচা এলাকার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সুবিধার্থে স্থানীয় ভাবে উভয় পক্ষকে একত্রিত করে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু প্রতিপক্ষ তা বাস্তবায়ন করেনি এরপরে আমি সদর ইউএনও মাসুম রেজা স্যারকে জানিয়েছি। তিনি এসিল্যান্ড স্যারের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান আদালত পাঠিয়ে কৃষকদের ফসল রক্ষার্থে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। এই জন্য আমি কানাইপুর ইউনিয়ন পরিষদের পক্ষ থেকে উপজেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই এবং কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

এসময় উপস্থিত ছিলেন সদর উপজেলা প্রশাসনের একটি চৌকস টিম, সামাজিক সংগঠন তরুছায়া ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি খালিদ মাহমুদ সজীব, প্রচার সম্পাদক মোঃ ইনামুল হাসান মাসুম সহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।