ফরিদপুরে জুয়া খেলা কেন্দ্র করে সংঘর্ষ-প্রতিপক্ষের ভয়ে বাড়ি ছাড়া অনেকেই


মোঃ হায়দার আলী খান, ফরিদপুর প্রতিনিধি: ফরিদপুর সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউনিয়নের মমিন খাঁর হাটে দীর্ঘ দিন ধরে জুয়া খেলার বোর্ড বসিয়ে আসছে স্থানীয় একদল জুয়ারি ব্যাক্তিবর্গ। প্রতিদিনের ন্যায় গত ৯ মার্চ রাত ৮ ঘটিকার দিকে রেজাউল ব্যাপারির ঘরে জুয়া খেলার সময় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মির্জা সাইফুল ইসলাম আজম ঘটনাস্থলে গিয়ে জুয়ারি নাজমুল ব্যাপারি, রেজাউল ব্যাপারি, হাকিম ব্যাপারি, রহমান মোল্লাম সেকেন মোল্লাকে তাৎক্ষনিক জুয়া খেলা বন্ধ করে দিয়ে এই রেজাউল ব্যাপারির ঘরে কোন ধরনের জুয়া খেলা না হয়, সে ব্যাপারে চেয়ারম্যান সতর্ক করে বাড়িতে চলে যান।

চেয়ারম্যান চলে যাওয়ার পরপরই বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক শাহাজাহান ব্যাপারি উপস্থিত হয়ে জুয়া খেলা বন্ধ করায় চেয়ারম্যানকে স্বাধুবাদ জানায়। ঠিক তাৎক্ষনিক উল্লেখিত জুয়ারী ও তাদের আত্মীয় ছালাউদ্দিন, সজিব, বেল্লাল ব্যাপারি, শহিদ ব্যাপারি, শামসু ব্যাপারি, আলমাসসহ একাধীক লোক নিয়ে বাজারের সাধারন সম্পাদক শাজাহান ব্যাপারির উপরে ক্ষিপ্ত হয়। এক পর্যায়ে দু-পক্ষের মধ্যে বাকবিতন্ডা হয়। কিছুক্ষনের মধ্যে জুয়ারী হাকিম ব্যাপারি ও ফরিদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর ছোট মেয়ের জামাতা আলমাস বাজার কমিটির সাধারন সম্পাদক শাজাহান ব্যাপারির ভাতিজা মুরাদকে ছ্যানদা দিয়ে মাথা লক্ষ করে কোপ ছুড়ে। এ সময় মুরাদ রক্তাত্ব জখম অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পরে।

শাহাজাহান অভিযোগ করে বলেন, ঘটনাকালিন সময় জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান এর উপস্থিতিতে উল্লেখিত জুয়ারী ও অন্যান্যদের হাতে থাকা লোহার রড দিয়ে আমার মাথা লক্ষ করে বাড়ি দিলে আমার ডান হাত দিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করলে ডান হাতে রক্তাত্ব নিলাফুলা জখম হয়। এ ঘটনার পর ভোলা মাস্টার এর জামাতা আলমাসসহ অন্যান্য সহযোগী জুয়ারীদের ভয়ে আহত শাজাহান ও মুরাদ ব্যাপারিসহ অন্যান্য আহতরা এলাকা ছেরে চলে যায়। উল্লেখিত ঘটনায় ফরিদপুর জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এর সদয় হস্তক্ষেপ কামনা করেছে আহতের পরিবারবর্গ।

এছাড়াও এলাকাবাসী জানান, জুয়ারী নাজমুল ও তার পরিবার জাল টাকা ও মাদক ব্যবসাীর সাথে জড়িত। কিছু দিন পুর্বে নাজমুলের মা এবং তার ছোট ভাইয়ের বউ শহরের সমরিতা হাসপাতালের সামনে জাল টাকা সহ পুলিশের হাতে আটক হয়। এছাড়াও ২ মাস পুর্বে তার ছোট ভাই এনামুল এর ঘর থেকে মাদকসহ এনামুলকে আটক করে মাদক দ্রব নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তর এবং বর্তমানে এনামুল জেল হাজতে রয়েছেন। উল্লেখ্য শাজাহান ব্যাপারি ও তার পরিবারবর্গ দীর্ঘ ৩৬ বছর আওয়ামীলীগের সাথে সম্পৃক্ত রয়েছে। বর্তমানে শাহাজান ব্যাপারি চরমাধবদিয়া ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি এবং তার ছোট ভাই কবির ব্যাপারি ইউনিয়নের ৩ নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সভাপতি পদে দায়ীত্ব পালন করছেন। এছাড়া ভোলা মাষ্টার ও শাজাহান ব্যাপারি দুজনই আপন চাচাতো ভাই।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শামসুল হক ভোলা মাস্টার এর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, একটি গন্ডগলের সুত্র ধরে চরমাধবদিয়া এলাকায় বাকবিতন্ডা সৃষ্টি হয়। স্থানীয় উত্তেজিত জনতা সংঘবদ্ধ হয়ে হামলার পরিকল্পনা করলে আমি উপস্থিত হওয়ায় তারা ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক পর্যায়ে ফিরে আসে। উক্ত বিষয়ে অভিযুক্ত আলমাস এর সাথে কথা হলে তিনি বলেন ঘটনা-ঘটার পর আমি গন্ডগলের স্থানে পৌছাই। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ ভিত্তীহিন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *