ফরিদপুরে বন্যায় কবলিত পরিবার গুলোকে দ্রুত আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন ডিসি


জিল্লুর রহমান রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার:
ফরিদপুরে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। পদ্মা নদীর পানি বর্তমানে বিপদ সীমার ১১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে ঝুকিপূর্ন অবস্থায় রয়েছে শহর রক্ষা বাঁধটি। বাঁধের বিভিন্ন অংশ দিয়ে পানি চুইয়ে বের হচ্ছে। পানির সাথে বাঁধের নিচের মাটিও সরে যাওয়ায় ঝুঁকি তৈরী হয়েছে বাঁধটিতে। তবে পানি উন্নয়ন বোর্ড জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন বাঁধটি রক্ষা করার জন্য। এদিকে আজ বন্যা কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার। পরিদর্শনকালে বাঁধের খারাপ অবস্থা দেখে বাঁধের উপর আশ্রয় নেয়া সকল পরিবারকে দ্রুত নিরাপদ সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে স্থানান্তরের নির্দেশ দিয়েছেন।
      
ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, আজ পদ্মার পানি বেড়ে বিপদসীমার ১১৭ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এদিকে আলিয়াবাদ ইউনিয়নের সাদিপুর এলাকার শহর রক্ষা বাঁধটি মেরামত করায় এক পাশের মানুষ পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। তারা হুমকি দিচ্ছে রাতে বাঁধ কেটে দিবে, তাই পুলিশ পাহাড়া বাড়ানো হয়েছে। বাঁধের যেসব জায়গায় লিকেজ রয়েছে তা মেরামত করা হচ্ছে।

এদিকে সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আজও আলিয়াবাদ ইউনিয়নের বন্যা কবলিতদের মাঝে তৈরী খাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। আজ ১০০০ মানুষের মাঝে রান্না করা খাবার বিতরণ করা হয়েছে। এছাড়া শতাধিক পরিবারের মাঝে শিশু খাদ্য বিতরণ করেন জেলা প্রশাসক।

জেলা প্রশাসক জানান, জেলার ৭ টি উপজেলার বন্যা কবলিত। তারমধ্যে সদর, সদরপুর ও চরভদ্রাসন বেশী ক্ষতিগ্রস্ত। মোট ৫১৯ গ্রামের ৩৮৩৬৯ টি পরিবারের ১৭২৬৬১ জন মানুষ বন্যা কবলিত রয়েছে। ৩৪ টি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে।

করোনা কালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে যেন সকলে অবস্থান করে সে কারণে বেশি আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখা হয়েছে। ইতিমধ্যেই প্রশাসনের পক্ষ থেকে ৩৬৫ মেঃ টন চাল, নগদ ৫ লক্ষ টাকা, ২৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার  ও পর্যাপ্ত শিশুখাদ্য বিতরণ করা হয়েছে। তাছাড়া উপজেলা প্রশাসন প্রতিদিনই খাবার রান্না করে এসব লোকজনকে খাওয়াচ্ছে।

প্রশাসনের পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন, তরুছায়া ফাউন্ডেশন সহ স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন গুলো ও রাজনৈতিক ব্যাক্তিগণ এ দুর্যোগে মানুষের পাশে রয়েছে। আমাদের কাছে পর্যাপ্ত খাদ্য মজুদ রয়েছে, খাদ্য সংকটে কেউ থাকবেনা। এই বাঁধটি ঝুকিপূর্ণ হওয়ায় এখানে আশ্রয় নেয়া লোকজনকে দ্রুত নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে পাঠানো হবে।
   
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, এলজিইডি নির্বাহী প্রকৌশলী ফারুক হোসেন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আব্দুস ছোবহান  উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নাহার ও তরুছায়া স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্মীরা।