ফরিদপুরে ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা আফসার শেখ ভোগ করছে সকল সরকারি সুযোগ সুবিধা


জিল্লুর রহমান রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার: সরকার পরিবর্তন হলে পরিবর্তন হয় অনেক কিছুরই। এ তালিকায় রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকাও। স্বাধীনতার ৪৯ বছর পার হলেও মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা আজও পরিপুর্নতা পায়নি। আসল মুক্তিযোদ্ধাদের নামের পাশাপাশি যুক্ত হয়েছে অনেক ভুয়া মুক্তিযোদ্ধার নাম। এ নামের তালিকায় যুক্ত হয়েছে ফরিদপুর জেলার মধুখালি উপজেলার পুর্ব গাড়াখোলা গ্রামের আফসার শেখের নাম। লাল মুক্তিবার্তা তালিকার ০১০৮০৪০০৫০ নম্বরে রয়েছে এই আফসার শেখের নাম যার পিতার নাম বিশু শেখ(মৃত)। তিনি কোথায় যুদ্ধ করেছিলেন বা কার নেতৃত্বে করেছিলেন এ বিষয়ে তিনি কিছুই বলতে পারেন না।

খোজ নিয়ে জানা গেছে, যুদ্ধ চলাকালীন রাজাকার হিসেবে পাকবাহিনীর অন্যতম সহযোগী ছিলেন এই আফসার শেখ। যখন পাকবাহিনীর অবস্থা শোচনীয় তখন তিনি তার বোনের বাড়ি বালিয়াকান্দি থানার কুমুরদিয়া গ্রামে দীর্ঘ তিন মাস আত্মগোপন করে থাকেন। পরবর্তীতে দেশ স্বাধীন হলে আফসার শেখ নিজেকে মুক্তিযোদ্ধা বলে জাহির করতে শুরু করে। যখন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে নাম দেওয়ার সুযোগ আসে তখন প্রাক্তন কমান্ডার টুকু আব্দুর রহমানের সহযোগীতায় মুক্তিযোদ্ধার খাতায় নাম লেখাতে সামর্থ হন। জানা যায়, সর্বজন স্বীকৃত রাজাকার শফি এর মাধ্যমে টুকু আব্দুর রহমানকে টাকা দিয়ে আফসার শেখ একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা বনে যায় এবং মুক্তিযোদ্ধা ভাতা সহ মুক্তিযোদ্ধা কোটায় তার সন্তানেরাও চাকুরী করে আছেন বহাল তবিয়তে। আর তাদের এই টাকার গরমে এলাকায় এখনও সেই রাজাকারি তান্ডব চালান নিরীহ পরিবারগুলোর উপর।

আফসার শেখের বিরুদ্ধে মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলে মাননীয় মন্ত্রী এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মধুখালিকে দ্রুত যাচাই বাছাই করে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দেন। উক্ত অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের কাজ শুরু করার পর পাকবাহিনীর সহযোগী আফসার শেখের পুত্র ওসমান শেখ বলেন টাকায় এ দেশে সবই হয়। যদিও তিনি যথার্থই বলেছেন। তাই বলে রাজাকার হবে মুক্তিযোদ্ধা এটাতো মেনে নেওয়া যায় না। তার পুত্র বলেন, যত টাকাই লাগুক তার পিতার নাম তিনি মুক্তিযোদ্ধার খাতায় রাখবেনই এবং তিনি তা করতে সক্ষম হয়েছেন।

এ বিষয়ে গত ১৯ জুলাই আছিয়া পারভীন নামে এক মহিলা ফরিদপুর জেলা প্রশাসক ও মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রনালয় বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন যে, আফসার শেখ জেনারেল ওসমানীর সনদপত্র জালিয়াতি করে ধরা পড়ার পরেও ঘুষ দুর্নীতির মাধ্যমে এখনো মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তালিকাভুক্ত থাকার জোড় চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা করে চলেছেন যে, যত টাকাই লাগুক তিনি মুক্তিযোদ্ধার তালিকায় থাকবেনই।

এ বিষয়ে মধুখালি মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মাদ খোরশেদ আলমের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বাছাই এর সময় আমাকে মধুখালি থেকে চাপ দেওয়া হয়, এজন্য আমি বলি উনি আসল মুক্তিযোদ্ধা। তবে কারা চাপ দেয় সে বিষয়ে তিনি কিছু বলেননি।

এ বিষয়ে আফসার শেখের কাছে যুদ্ধকালিন কোথায় ছিলেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি ষ্ট্রোকের রুগি এখন কিছু বলতে পারবোনা।

এ বিষয়ে মধুখালি নির্বাহী অফিসার মোস্তফা মনোয়ারের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। তবে ঘটনাটি আমি আসার আগের। আমি বিষয়টি খতিয়ে দেখব।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *