ফরিদপুরে ভেঙে যাওয়া বাঁধ পরিদর্শন করলেন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার


মোঃ ইনামুল হাসান মাসুম: ফরিদপুরের পদ্মার পানি বিপৎসীমার ১০৪ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানির চাপে ভেঙে গেছে শহরতলীর আলিয়াবাদ ইউনিয়নের শহর বন্যা প্রতিরক্ষা বাঁধ। বাঁধটি শহরতলীর সাদিপুর-বায়তুলআমান সংযোগ সড়ক হিসেবে ব্যবহার করা হত। বাঁধ ভেঙে যাওয়া নতুন করে পানি প্রবেশ করছে অন্তত পাঁচটি গ্রামে। রোববার সকাল ৭ টার দিকে হঠাৎ করে বাধটি ভেঙ্গে যাওয়ায় আশে পাশের কয়েক গ্রামের মানুষ বেড়িবাঁধের রাস্তার উচু জায়গায় খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে।

এদিকে ফাটল দেখা দেয়ায় ফরিদপুর চরভদ্রাসন আঞ্চলিক সড়কে যানচলাচল সাময়িক বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। এই সড়কের বেশ কয়েকটি স্থান পদ্মার পানিতে নিমজ্জিত রয়েছে। ফাটলের স্থানে জিও ব্যাগ ফেলে পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

আলীয়াবাদ ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আখতারুজ্জামান জানান, হঠাৎ করে শহররক্ষা বাঁধটি ভেঙ্গে যায়। বাধের পাশে ৫টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। অনেকেই বাড়ীর প্রয়োজনীয় মালামাল নিয়ে রাস্থায় উঠেছে। হঠাৎ বাধ ভেঙে পানির চাপে বাঁধের পাশের বেশ কয়েকটি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার জানান, শহররক্ষা বাধে পাশে পানি চাপ কমে গেলে বাধটি মেরামত করা হবে। আর এখন যারা খোলা আকাশের নিচে যারা রয়েছে তাদের শুকনো খাবারসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র দেওয়া হচ্ছে।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, এখন পর্যন্ত জেলার ৩০টি ইউনিয়নে ২২ হাজার পরিবার এখন পানিবন্দি হয়ে রয়েছে। তাদের জন্য সরকারি খাদ্য সহায়তা বিতরন করা হচ্ছে। এছাড়াও জেলা সদর থেকে চরভ্রদাসন ও সদরপুর উপজেলার প্রধান সড়কটি চলাচলের উপযুগী করতে সড়ক বিভাগকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যদিও ওই সড়কে বেশ কিছু স্থান পানিতে নিমজ্জিত।

ফরিদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সুলতান মাহমুদ জানান, বর্তমানে পদ্মার পানি গোয়ালন্দ পয়েন্টে ৯.৬৯ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। যা বিপৎসীমার ১০৪ সেন্টিমিটার ওপরে। এর ফলে প্রতিদিনই নতুন নতুন এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে। তীব্র ভাঙন দেখা দিয়েছে মধুমতি নদীর আলফাডাঙ্গা ও মধুখালী উপজেলার কয়েকটি ইউনিয়ন।

তিনি জানান, শহর বন্যা প্রতিরক্ষা বাধের আলিয়াবাদে প্রায় ১০০ ফিটের মত জায়গা ধ্বসে গেছে। রোববার সকাল ৭ টার দিকে এই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তাগন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। সেখানে বালুর বস্তাসহ কিভাবে বাধ রক্ষা করা যায় সেই ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইউএনও মাসুম রেজা বলেন, হটাৎ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ার কারনে এলাকাবাসীর মনে আতংক বিরাজ করছে, তাই আমরা উপজেলা প্রশাসন ২৪ ঘন্টা বন্যা পরিস্থিতি মনিটরিং করছি এবং তাদের সকল প্রয়োজনে আমরা তাদের পাশে আছি, আমরা সাধারন মানুষকে নিরাপদে রাখতে আমাদের কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছি এবং আমরা সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই দূর্যোগ কাটিয়ে উঠবো, ইনশাআল্লাহ।