ফরিদপুরে মাদক ও বিকাশ প্রতারক চক্রের সদস্য গ্রেফতার


জিল্লুর রহমান রাসেল, ফরিদপুর:

ফরিদপুর জেলার ভাংগা উপজেলা হতে ইয়াবা, ফেন্সিডিল এবং বিকাশ প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত বিপুল পরিমান মোবাইল সেট, সীমকার্ড ও অন্যান্য সরঞ্জামাদিসহ বিকাশ প্রতারক চক্রের ০৫(পাঁচ) সদস্যকে আটক করেছে র‍্যাব।

র‍্যাব-৮ এর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানা যায়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে যে, ফরিদপুর জেলার ভাংগা থানাধীন রায়নগর গ্রাম এলাকায় কিছু ব্যক্তি বিকাশ প্রতারণার মাধ্যমে মানুষের নিকট হতে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে।

এ বিষয়ে ফরিদপুর র‍্যাব ক্যাম্প গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ ও ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অনুসন্ধান শুরু করে এবং ঘটনার সত্যতা পায়। ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত হয়ে র‍্যাব-৮, সিপিসি-২ ফরিদপুর ক্যাম্পের একটি বিশেষ আভিযানিক দল ক্যাম্পের ভারপ্রাপ্ত কোম্পানী কমান্ডার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ খোরশেদ আলম এবং কোম্পানীর স্কোয়াড কমান্ডার সহকারী পুলিশ সুপার মাহিদুল হাসান এর নেতৃত্বে ১৯ এপ্রিল দিবাগত গভীর রাতে জেলার ভাংগা থানাধীন রায়নগর গ্রাম এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়।

এ অভিযানে বিকাশ প্রতারক চক্রের ০৫ জন সক্রিয় সদস্য একই গ্রামের মোঃ খালেক মাতুব্বরের পুত্র মোঃ ফারুক মাতুব্বর (৩৫), মোঃ আনোয়ার হোসেনের পুত্র মোঃ সুমন হোসেন (২৮), মতলেব বেপারির পুত্র মোঃ শফিকুল ইসলাম (২৩), মৃত কালাম মাতুব্বরের পুত্র মোঃ সজিব মাতুব্বর (১৯) ও জাঙ্গাল পাশা গ্রামের মোঃ আলী মাতুব্বরের পুত্র মোঃ আনোয়ার হোসেন (২১) কে আটক করে।

এ সময় আটককৃত প্রতারক চক্রের সদস্যেদের হেফাজত হতে ২২ (বাইশ) পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১২ বোতল ফেন্সিডিল এবং বিকাশ প্রতারনার কাজে ব্যবহৃত ১৫ (পনের) টি মোবাইল ফোনসহ ২৭৩ (দুইশত তিয়াত্তর) টি সীমকার্ড, ০১ টি ল্যাপটপ এবং বিকাশ প্রতারনার ২৯,৫০০/- টাকা জব্দ করা হয় ।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আটককৃতরা বিকাশ প্রতারনার মাধ্যমে জনসাধারনের নিকট হতে বিপুল পরিমান অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে বলে স্বীকার করে। ঘটনার বিবরনে জানা যায়, বিকাশ প্রতারক চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন দুর্নীতি পরায়ণ মোবাইল সীম বিক্রেতার সাথে পরস্পর যোগসাজশ করে ভূয়া নামে সীম কার্ড রেজিস্ট্রেশন ও উক্ত সীমকার্ড ব্যবহার করে অসাধু ডিএসআর (বিকাশ এ্যাকাউন্ট খোলার জন্য বিকাশ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক নিয়োগকৃত এ্যজেন্ট) গণের মাধ্যমে ভূয়া বিকাশ এ্যাকাউন্ট খোলে।

প্রতারক চক্রের সদস্যরা দুর্নীতিপরায়ণ ডিএসআর গণের নিকট থেকে অর্থের বিনিময়ে বিকাশ এ্যজেন্টদের লেনদেনের তথ্য সংগ্রহ করে ঐসব ভূয়া রেজিস্ট্রেশনকৃত মোবাইল সীমকার্ড ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের সহজ সরল সাধারণ জনগনের নিকট নিজেকে বিকাশ হেড অফিসের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করে কৌশলে তাদের বিকাশ পিন কোড জেনে নেয় এবং স্মার্ট ফোনে বিকাশ এ্যাপস্ ব্যবহার করে উক্ত সাধারণ লোকজনের বিকাশ এ্যাকাউন্ট হতে প্রতারনার মাধ্যমে টাকা হাতিয়ে নেয়।

আটককৃত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফরিদপুর জেলার ভাংগা থানায় সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলা রুজুর প্রক্রিয়া চলমান আছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *