রাতও বাড়ে ট্রাকও বাড়ে-অবৈধ বালু উত্তোলন কারীদের বিরুদ্ধে কঠোর অভিযান


জিল্লুর রহমান রাসেল, ফরিদপুর:

রাতও বাড়ে ট্রাকের সংখ্যাও বাড়ে ফরিদপুরের পদ্মা নদীর পাড় ঘেষা ধলার মোড়. মদনখালী ও সিএন্ডবি ঘাট এলাকার পদ্মার বুকে। এ সময় একের একের পর লাইট জ্বালিয়ে মাথা উচু করে পদ্মা নদীর গভীর চরে যাওয়া আসা করে ট্রাকের লম্বা বহর। নদীর বুকে তখন চলে ৮ থেকে ১০ টি ভেকু দিয়ে বালু উত্তোলনের মহোৎসব। সরোজমিনে রাত ১০টার দিকে গিয়ে দেখা যায় ভেকু গুলো একের পর এক ট্রাক ভরছে বালু দিয়ে।

তবে এই সব এলাকার লোকজনের সাথে কথা বলে জানাগেছে কি দিন, কি রাত ম্যানেজ করে দিনরাত সব সময় বালু খেকোরা বালু বেচাবিক্রি করে চলছেন।

খালেক নামে একজন জানান, ভাই আমরা এখানে আর বাস করতে পারছিনা। যেহারে ট্রাক গুলো রাত ভরে বালু নেয় এর শব্দ ও ধুলাবালিতে বাস করাই কষ্ট সাধ্য হয়ে গেছে। তিনি বলেন আমরা এর থেকে মুক্তি চাই।

জলিল নামে একজন জানান, এলাকার প্রভাবশালী কয়েকজন ব্যক্তি এই সব কাজ করছে। তাদের বিরুদ্ধে কেও কথা বলে না। আমরা নিজেরাও খুব ভয় পাই। আপনারা কিছু একটা করেন ভাই।

বাবর নামে একজন বলেন, এক একটি ভেকু রাত ভরে বালু কাটবে। এটার দায়িত্ব যিনি নিবেন তাকে ভোর রাতে ভেকু প্রতি ২৫ হাজার টাকা করে দেওয়ার কথা শুনেছি। সব খরচ বাদেই তিনি ওই টাকা পান বলে তিনি জানান।

এদিকে উপজেলা প্রশাসন বিষয়টি জানার সাথে সাথে ১১ এপ্রিল রবিবার দিবাগত রাত ১০টার দিকে ওই দুই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছে। ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার এর নির্দেশনায় ও উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজার এর সার্বিক তত্ত্বাবধানে অভিযান পরিচালনা করেন সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ আল-আমিন। এসময় তিনি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে ঘটনাস্থলে ড্রাইভারসহ একটি ট্রাক আটক এবং ২টি ভেকু বিনষ্ট করেন। প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে দুস্কৃতিকারীরা এসময় পালিয়ে যায়।

সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা বলেন, আমরা স্থানীয় সূত্রে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পদ্মা নদীর ভিতরে গিয়ে অভিযান পরিচালনা করি। এসময় ড্রাইভারসহ একটি ট্রাক আটক এবং ২টি ভেকু বিনষ্ট করা হয়। এছাড়া অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা রুজুর ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তিনি বলেন অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারীদের বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে।

ব্যাটেলিয়ান আনসারের একটি টিম উপস্থিত থেকে এ অভিযানে সহযোগিতা করেন।

স্থানীয়রা মনে করেন এভাবে পরিকল্পনাহীন ভাবে পদ্মার বুক থেকে বালু কাটার যে মহোৎসব চলছে বালুখেকোদের, এগুলো অচিরেই বন্ধ হওয়া উচিত। তা না হলে পদ্মার ভাঙ্গনে দিশেহারা হতে হবে পদ্মার তীরবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *