ফরিদপুরে সদর ইউএনও’র প্রচেষ্টায় বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি পেল মায়া রানী সাহা


মোঃ ইনামুল হাসান মাসুম, ফরিদপুর:
ফরিদপুর সদর উপজেলার আওতাধীন শোভারামপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা প্রয়াত সুবাস চন্দ্র সাহার স্ত্রী মায়া রানী সাহা। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর দ্বারা নির্যাতনের শিকার হয় এই মায়া রানী সাহা। তিনি যুদ্ধপরবর্তী সময়ে দীর্ঘ ৪৯ বছর মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য তিনি দীর্ঘদিন বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি দপ্তরে ঘুরাঘুরি করেও তার স্বীকৃতি মেলেনি, তার এই ঘটনাটি ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজার দৃষ্টিগোচর হলে তিনি জরুরী ভিত্তিতে তার সি.এ কামাল হোসেনকে সকল তথ্য উপাত্ত সহ একটি প্রতিবেদন আকারে পেশ করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করেন।

ইউএনও মোঃ মাসুম রেজার নির্দেশনায় সদর উপজেলা বীরঙ্গনা যাচাই বাছাই কমিটি সহ উপজেলার বিভিন্ন কর্মকর্তা কর্মচারীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় মায়া রানী সাহার যাবতীয় কাগজপত্র তদারকি করে ১৫ জানুয়ারী ২০২০ তারিখে জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কাউন্সিলে প্রেরণ করা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় জাতীয় মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক কাউন্সিল থেকে যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করে ১৪ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে একটি বিশেষ প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে বীরাঙ্গনার স্বীকৃতি প্রদান করা হয়।

বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি পাওয়ার খবর শোনা মাত্রই সাথে সাথেই মায়া রানী সাহা আবেগাপ্লুত এবং খুশিতে আত্মহারা হয়ে ইউএনও’র কাছে ছুটে এসেছেন। মায়া রানী সাহা উপজেলায় আসা মাত্রই সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা তাকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন এবং তাকে অভিনন্দন জানান।

এসময় ইউএনও মোঃ মাসুম রেজা বলেন, দেশের স্বাধীনতা সার্বভৌমত্ব রক্ষায় মুক্তিযোদ্ধাদের অবদান অবিস্মরনীয়। তারই ধারাবাহিকতায় উপজেলা প্রশাসনের সাহায্যে স্বীকৃতি পেল বীরাঙ্গনা মায়া রানী সাহা। তিনি আরো জানান, মুজিববর্ষে ও বিজয়ের মাসে ফরিদপুর সদর উপজেলায় বীরাঙ্গনা স্বীকৃতি প্রদান একটি বড় অর্জন মনে করি। এতে আমরা আনন্দিত এবং ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বীরাঙ্গনা মায়া রানী সাহার জন্য সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *