ফরিদপুরে সব বয়সের মানুষের আশ্রয়স্থলে পরিণত হয়েছে ডিসির গণশুনানি


জিল্লুর রহমান রাসেল, ফরিদপুর:

সুমাইয়া আক্তার। বয়স আটের কাছাকাছি। প্রতি ছয় মাস পরপর তার শরীরে ১ ব্যাগ করে রক্ত দিতে হয়। এর সাথে চিকিৎসার অন্যান্য খরচ তো আছেই। জন্মের পর থেকেই তার এই অবস্থা।

সুমাইয়ার বাড়ি শহরের কমলাপুরে। মা নাজনীন আক্তার গৃহিনী। পিতা সাঈদ হাসান কার্যত উপার্জনহীন। সুমাইর দাদা-দাদী দুজনেই সরকারি কর্মচারী ছিলেন। অবসরের পর তাদের প্রাপ্ত অবসর ভাতা দিয়ে সংসার চলত। কয়েক বছর আগে সুমাইয়ার দাদী এবং গত বছরের ডিসেম্বরে মারা গেছে সুমাইয়ার দাদা। ফলে পরিবারের অর্থের উৎস বন্ধ হয়ে গেছে। অর্থ বিহিন সংসারে খাদ্য সংস্থান করাই যেখানে দুষ্কর, সেখানে সুমাইয়ার জন্য নিয়মিত রক্তের ব্যবস্থা- চিকিৎসা করা পরিবারের জন্য কতটা কষ্ঠসাধ্য তা অনুমেয়।

আজ ৩ মার্চ বুধবার সুমাইয়া তার মাকে নিয়ে এসেছিল জেলা প্রশাসকের গণশুনানীতে। জেলা প্রশাসক অতুল সরকার তার কথা শুনে তাকে স্থায়ী একটি ব্যবস্থার উদ্যোগের কথা জানালেন।

শুধু প্রাপ্ত বয়ষ্কই নয়, শিশু কিশোর থেকে শুরু করে সকল বয়সীদের নানাবিধ সমস্যা সমাধানের আশ্রয়স্থল হয়ে উঠেছে ফরিদপুর জেলা প্রশাসকের প্রকাশ্যে গণশুনানী।

চিকিৎসা সহায়তা প্রাপ্তি, জমির একসনা বন্দোবস্ত প্রাপ্তি, আইনগত সহায়তা, আর্থিক সাহায্য, টিআর, জিআর. সরকারি ডেউটিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা ভাতা প্রাপ্তি, প্রতিবন্ধী ভাতা প্রাপ্তি, বিধবা ভাতা প্রাপ্তি, বাল্য বিবাহ রোধ, জমিজমা বিরোধ সংক্রান্ত, ঘর মেরামত, পড়ালেখার খরচ চালানো, শীতের পোষাক প্রাপ্তি, ধর্মীয় কার্যাদিসহ বিভিন্ন বিষয়ে জেলার নাগরিকগন জেলা প্রশাসককে জানান। জেলা প্রশাসক সেসব সমস্যা সমাধান করে থাকেন।

সাধারণত প্রতিদিনই জেলা প্রশাসক জনসাধারণের কথা শুনে থাকেন। তবে বিশেষভাবে প্রতি বুধবার দীর্ঘ সময় নিয়ে গণশুনানী অনুষ্ঠিত হয়। প্রতি বুধবার জেলা প্রশাসকের প্রকাশ্যে গণশূনানীতে প্রায় শতাধিক লোক অংশ গ্রহণ করেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *