ফরিদপুরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীগন সম্মিলিতভাবে গর্জে উঠেছে


ফরিদপুর প্রতিনিধি:
সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, বৃহত্তর ফরিদপুরের শ্রেষ্ঠ সন্তান জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর অবমাননা প্রতিরোধে গর্জে উঠেছে ফরিদপুরের সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।

‘জাতির পিতার সম্মান, রাখবো মোরা অম্লান’ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে প্রতিরোধ পদযাত্রা ও সমাবেশ করেছে জেলা প্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ প্রশাসনসহ সরকারের বিভিন্ন দপ্তর। এছাড়াও ফরিদপুর চেম্বারের উদ্যোগে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়।

সাংবিধানিক মর্যাদা সমুজ্জ্বল রাখার লক্ষ্যে ফরিদপুরে কর্মরত প্রজাতন্ত্রের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা একত্রিত হয়ে শনিবার (১২ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় সময় স্থানীয় জসীম উদদীন অডিটোরিয়ামে এক সমাবেশে মিলিত হন।

জনপ্রশাসন, বিচার বিভাগ, পুলিশ, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রকৌশল, কৃষিসহ এ জেলার সকল কর্মকর্তা কর্মচারীরা অতিসম্প্রতি দেশব্যাপী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে নিয়ে যে অবমাননাকর বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা সংঘটিত হয়েছে তার তীব্র নিন্দা জ্ঞাপন করেন।

জেলা প্রশাসক অতুল সরকার এর সভাপতিত্বে সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বিজ্ঞ জেলা ও দায়রা জজ মোঃ সেলিম মিয়া, পুলিশ সুপার মোঃ আলিমুজ্জামান বিপিএম, সিভিল সার্জন মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান, বিসিএস শিক্ষা সমিতির সভাপতি প্রফেসর মোশার্রফ আলী, ফরিদপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি মোঃ কবিরুল ইসলাম সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক মশিউর রহমান খোকন, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা, রাজেন্দ্র কলেজের সহযোগী অধ্যাপক রেজভী জামান, কালেক্টরেট ক্লাবের সভাপতি মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বিশ্বাস, প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম কাজল, মাধ্যমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মনিরুল ইসলাম, নার্সিং এসোসিয়েশনের সভাপতি আফসানা শান্তা, আইবিইবি’র সভাপতি ড. মিজানুর রহমান সহ কৃষিবিদ, নির্বাহী প্রকৌশলী, শিক্ষাবিদসহ বিভিন্ন পেশাজীবী অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকগণ।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, বঙ্গবন্ধু মানেই বাংলাদেশ; বঙ্গবন্ধুর যেকোনো ধরনের অবমাননা বা সম্মানহানি সেটি বাংলাদেশের সম্মান হানিরই নামান্তর যা কোন দেশ প্রেমিক নাগরিকের পক্ষে তা মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সাংবিধানিকভাবে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হিসেবে প্রজাতন্ত্রের প্রত্যেক কর্মচারীর দায়িত্ব হচ্ছে, সংবিধানের সুরক্ষা নিশ্চিত করা; আর সেই সংবিধানে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে জাতির পিতা হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে এবং তার মর্যাদা সমুন্নত রাখার বিধান করা হয়েছে।

বক্তারা বলেন, কেউ যদি সংবিধানের সেই বিধানাবলীর লংঘন করেন তা বাংলাদেশের মূল আইন লংঘন তথা রাষ্ট্রদ্রোহিতার সামিল। জাতির পিতার যে কোন রুপ অসম্মানের বিরুদ্ধে প্রয়োজনে তারা সর্বোচ্চ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে কার্পণ্য বোধ করবেন না বলে দৃঢ় কন্ঠে ঘোষণা করেন। দেশের বিরাজমান সংবিধান ও আইন-শৃঙ্খলার প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে সকল নাগরিককে তার নিজ নিজ কর্তব্য পালন করার জন্য বক্তারা অনুরোধ জানান।

উন্নয়নের অদম্য গতিতে ছুটে চলা বাংলাদেশের উন্নয়ন যাতে কোনোভাবেই বাধাগ্রস্ত না হয় সেজন্য সকলকে সতর্ক থাকারও আহ্বান জানানো হয়।

এর আগে সমাবেশের প্রতি সংহতি জানিয়ে জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, জেলা আনসার কমান্ডার ও ফায়ার ব্রিগেডের কর্মকর্তাদের নেতৃত্বে পুলিশ, আনসার ও ফায়ার ব্রিগেডের সুসজ্জিত সদস্যদের এক প্রতিরোধ পদযাত্রা শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।

স্বাস্থ্য, শিক্ষা, প্রকৌশল, সাংবাদিক সহ অন্যান্য বিভাগের কর্মচারীরাও অনুরূপ পদযাত্রা করে সমাবেশ স্থলে উপস্থিত হন। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের এ ধরনের ব্যতিক্রমী প্রতিরোধ কর্মসূচি মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী স্থানীয় সকল জনগণের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে সমাবেশের সূচনা ও সমাপ্তি ঘটে। ‘জাতির পিতার সম্মান রাখবো মোরা অম্লান’ এই ঘোষণা কে সামনে রেখে সভায় সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা একটি শপথ বাক্য পাঠ করেন। সভায় মুক্তিযুদ্ধ ও বঙ্গবন্ধু: বাংলাদেশ বিষয়ক একটি সেমিনার পেপারও উপস্থাপন করা হয়; যেখানে বঙ্গবন্ধুর জীবন ও আদর্শ নিয়ে বিস্তারিত আলোকপাত করা হয়।

এদিকে দুপুর ১২টার দিকে ফরিদপুর চেম্বার অব কর্মাসের আয়োজনে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙচুরের প্রতিবাদে প্রেসক্লাবের সামনে মুজিব সড়কে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছে ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। এসময় বক্তব্য রাখেন মনির হোসেন, আওলাদ হোসেন বাবর, লায়ন মোহসিন শরীফ, নজরুল ইসলাম প্রমুখ।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *