ফরিদপুরে সরকারি কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগ


জিল্লুর রহমান রাসেল, ফরিদপুর:

ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নে ২০২০-২১ অর্থ বছরের দুটি প্রকল্পে কোন কাজ না করে বিল উত্তোলন করে নিজেরা ভাগ বাটোয়ারা করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে তিন ইউপি সদস্যের বিরুদ্ধে। এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে অভিযোগ দিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এলাকাবাসী।

সরজমিনে গেলে স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন প্রকল্পের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। এর মধ্যে দুটি প্রকল্পে কোন কাজ না করে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের সভাপতি/সম্পাদক নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নিয়েছেন। দেখা যায়, আরিফ বাজার মাদ্রাসা থেকে আয়নাল হক মাস্টারের বাড়ী পর্যন্ত একটি রাস্তায় মাটি ফেলার কাজ করার কথা থাকলেও সেখানে কোন প্রকার কাজ করা হয়নি।

স্থানীয়রা জানান, রাস্তায় এক কোদাল মাটিও ফেলা হয়নি। অথচ এ কাজ দেখিয়ে ৬০ হাজার টাকা উত্তোলন করে নিয়েছেন কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট ইউপি সদস্য কবির মোল্যা। জানা গেছে, অন্য রাস্তার ছবি তুলে তা বিলের সাথে জমা দিয়ে ঈদের আগেই টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া একই ইউনিয়নের লক্ষীদাসের হাট থেকে বিষ্ণুপুর মাদ্রাসা পর্যন্ত ইটের ফ্লাট সলিং রাস্তা ও মেরামত এবং কালভার্ট পুনঃ নির্মানের কাজ করার কথা থাকলেও কোন কাজ না করেই ১ লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে।

ঐ এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, রাস্তা ও কালভার্ট পূনঃ নির্মানের কোন কাজই করা হয়নি। অথচ তার বিল তুলে নেওয়া হয়েছে। এ কাজের সাথে সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার রেজাউল করিম বাচ্চু ও লিটন বিশ্বাস সেকেন সমস্ত টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট কাজের সাথে যুক্ত ৪ নং ওয়ার্ড মেম্বার রেজাউল করিম বাচ্চু জানান, ঐ কমিটিতে সেকেন সভাপতি আমি সদস্য আর ঐ জায়গা ৬ নং ওয়ার্ডের। ওখানে কিছু কাজ করা হয়েছে।

এদিকে মেম্বার কবির মোল্যার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা সত্য না। যে জায়গায় রাস্তা করার কথা সে জায়গার মালিক রাস্তা করতে না দিলে আমি কিছুটা সামনে গিয়ে রাস্তা করেছি। উপজেলা থেকে পিআইও ম্যাডাম এসেছিলেন, দেখে গেছেন। আমি বলেছি যে জায়গায় করার কথা সেখানে না করে আমি অন্যায় করেছি। আমি দ্রুতই নির্ধারিত জায়গায় রাস্তাটি করে দিবো।

এ বিষয়ে সদর উপজেলা প্রকল্প বাস্তাবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) নুরুন্নাহার বেগমের সাথে মুঠোফোনে কথা বললে তিনি জানান, কবির মোল্যা রাস্তার কাজ সম্পুুর্ন করেছেন তবে নির্ধারিত জায়গায় করেননি। তাকে আগামী রবিবারের মধ্যে নির্ধারিত জায়গায় রাস্তার কাজ সম্পুর্ন করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্য যে কাজটি রয়েছে সেটাও তারা দ্রুত সম্পন্ন করবে।

এ বিষয়ে ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম মজনু বলেন, দুটি কাজ নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আমার উর্ধ্বতন কর্মকর্তা রয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে। ঘটনার সত্যতা মিললে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা বলেন, দুটি প্রকল্পে কোন কাজ না করে বিল উত্তোলনের বিষয়ে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। বিষয়টি সরেজমিনে গিয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা নুরুন্নাহার বেগমকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদনে যে তিনজন মেম্বারের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে। তাদের কোন প্রকার ছাড় দেওয়া হবেনা।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *