ফরিদপুরে সরকারি সম্পদ লুটপাটে মেতে উঠেছেন পৌর কাউন্সিলর হানিফ শেখ


জিল্লুর রহমান রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার :

ফরিদপুর পৌরসভার নব নির্বাচিত ৩ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হানিফ শেখ শপথ করে এসে দায়িত্ব বুজে নেওয়ার পর পরই শুরু করেছেন সরকারি সম্পত্তি লুটপাট। ঘটনা সূত্রে জানা যায়, বর্ধিত পৌর এলাকার পারচর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নতুন ভবন নির্মানের কারণ দেখিয়ে বড় বড় মেহগনি গাছ ও আকাশমনি গাছ কেটে বিক্রি করার চেষ্টা করেন কাউন্সিলর হানিফ শেখ।

সংবাদ পেয়ে সরজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয় মাঠে ১ টি আকাশমনি গাছ ও ৬টি মেহগনি গাছ কেটে ফেলে রাখা হয়েছে। এই গাছ কাটার বিষয়ে স্কুলের দপ্তরী শফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, এই গাছ কাটার বিষয়ে ফরিদপুর সদরের ইউ এন ও স্যার আমার থেকেও ভালো জানেন, আর এখানে নতুন ভবন হবে তাই স্কুলের সভাপতি ও ভবনের ঠিকাদার ইউ এন ও অফিসে লিখিত জানিয়ে গাছ কাটার অনুমিত এনেছে।

নব নির্বাচিত এই কাউন্সিলর হানিফ শেখের মুঠো ফোনে গাছ কাটার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন,আপনি কিসের সাংবাদিক কোন পত্রিকা থেকে আইছেন, আর হ্যাঁ, ভাই আপনি কোন পক্ষ থেকে আইছেন? যে আমার কাজে বাধা দিতে আসছেন, আর এই গাছ কাটার বিষয়ে ইউ এন ও সহ সবাই জানেন, যেখান থেকে গাছ কাটা হয়েছে ওখানে নতুন ভবন হবে, আপনি পারলে ঠিকাদারের সাথে কথা বলেন। তিনি একবার বলেন ইউ এন ও জানেন, আবার বলেন টি ও জানেন।

পারচর প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশপাশের কয়েকজন বসতি অভিযোগ আকারে বলেন, বর্তমানে এই কাউন্সিলর হানিফ শেখই স্কুলের সভাপতি আবার হয়েছেন কাউন্সিলর শপথ গ্রহন করে আসতে না আসতেই সরকারি গাছ কাটায় মেতে উঠেছেন, না জানি ৩ নং ওয়ার্ডের কি হাল হবে, সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে জানা যায়, স্কুলের সভাপতি হানিফ শেখ ভবনের ঠিকাদার মোশারফ হোসেন মুসা ও সহকারী শিক্ষক বিলকিছ বেগম সহ এই গাছ কেটে বিক্রি করার চেষ্টা করেন।

এবিষয়ে ঠিকাদার ফোশারফ হোসেন মুসার কাছে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনিও বলেন, গাছ কাটার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানেন, তার কাছ থেকে মৌখিক অনুমতি নিয়ে গাছ কেটেছি।

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইমদাদুল হক বলেন, গাছ কাটার বিষয়টি আমার জানা ছিলনা। আমি যখন জানতে পারি ততক্ষণে বেশ কয়েকটি গাছ কাটা হয়ে গেছে। আমি তাৎক্ষণিক শিক্ষা অফিসারকে জানাই। তারাই তখন ব্যবস্থা নিয়েছেন।

এ বিষয়ে ফরিদপুর সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাসুম রেজার কেছে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এই গাছ কাটার বিষয়ে আমি কিছুই জানতাম না। আমি তহশীলদার পাঠিয়ে গাছগুলো জব্দ করেছি। গাছগুলো এখন বন বিভাগের দায়িত্বে রয়েছে। অল্প দিনের মধ্যে টেন্ডারের মাধ্যমে গাছগুলো বিক্রি করার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর জেলা শিক্ষা অফিসারের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটি বেশ কয়েকবার হানিফ শেখকে ডাকলেও তিনি হাজির হননি। তবে তিনি ফোনে ভুল স্বীকার করেছেন। কিন্তু আমি বলেছি তাকে লিখিত ভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করতে হবে। অন্যথায় প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *