ফরিদপুরে ৫ বছর যাবৎ অবৈধভাবে চলছে এ আর বি ইট ভাটা


জিল্লুর রহমান রাসেল, ফরিদপুর:

ফরিদপুর সদর উপজেলার ঈশান গোপালপুর ইউনিয়নের ডিক্রি চর বারখাদা গ্রামে অবস্থিত মোঃ জাকির হোসেন সিদ্দিকী (জুয়েল) স্বত্বাধিকারী এ.আর.বি ইট ভাটা গত ৫ বছর ধরে অবৈধভাবে চলছে। এই ইট ভাটাটির পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই বলেও জানিয়েছেন পরিবেশ অধিদপ্তর ফরিদপুর জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক এ.এইচ.এম রাসেদ।

ইট ভাটা স্থাপনের নিয়ম অনুযায়ী জানা যায়, কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি এবং তিন ফসলির জমি থেকে আশপাশের ১ কিলোমিটারের ভেতর ভাটা স্থাপণ সম্পূর্ণ অবৈধ এবং বাংলাদেশ পরিবেশ সংরক্ষণ আইনের ১৯৯৫ এর ১২ ধারা অনুযায়ী ইট ভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়াপত্র বাধ্যতামূলক। কিন্তু এসব নিয়মনীতি তোয়াক্কা না করেই চলছে এই ইট ভাটাটি।

বুধবার (২৪শে মার্চ ২০২০ইং) সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, এ আর বি ব্রিকস তিন ফসলি জমির পাশে এবং জনবসতি এলাকায় অবস্থিত। এছাড়া ইট ভাটা সংলগ্ন রয়েছে ডিক্রি চর বারখাদা সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়। এতে মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছেন বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ও এলাকাবাসী। পাশাপাশি চলছে এই ভাটার জন্য তিন ফসলি জমির মাটি কাটার মহোৎসব। ভাটা থেকে ১/২ কিলোমিটার দূরে রাজবাড়ী সদরের খানখানাপুর ইউনিয়নের ডিক্রি চর চাঁদপুর গ্রামের ফসলির জমি থেকে মাটি কাটা হচ্ছে। মাটি কেটে এ আর বি ব্রিক্সের নিজস্ব কতগুলো ড্রাম ট্রাক দিয়ে মাটি নেওয়া হচ্ছে ভাটায়। এতে যেখানে-সেখানে মাটি পড়ে ধুলাবালির সৃষ্টি হচ্ছে।

এলাকাবাসীরা জানান, আপনারা বিষয়টি নিয়ে নিউজ করেন। আমরা আর এলাকায় টিকতে পারতেছি না। ধুলো-বালির সাথে আমাদের বসবাস করতে হচ্ছে। আপনারা আমাদের বিছানায় গিয়ে দেখেন, সেখানেও ধুলাবালিতে ভরে গেছে। খাবার খেতেও কষ্ট হচ্ছে, হাড়ি-পাতিলও ধুলাবালিতে ভরে যায়। এই ভাটার মালিক খুব প্রভাবশালী। তিনি ফরিদপুর শহরের টেপাখোলার বাসিন্দা। আমরা প্রতিবাদ করলে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ও মাস্তানদের ব্যবহার করে ভয়ভীতি দেখায়।

এ সময় ইট ভাটার মালিক মোঃ জাকির হোসেন সিদ্দিক (জুয়েল) মোবাইল ফোনে সাংবাদিকদের কর্কট ভাষায় বলেন, আমার সব কাগজপত্র আছে। আপনাদের সমস্যা কি?

এ আর বি ইট ভাটার পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়াপত্র আছে কি-না এ বিষয়ে জানতে চাইলে ফরিদপুর পরিবেশ অধিদপ্তর কার্যালয়ের উপ-পরিচালক এ.এইচ.এম রাসেদ এ প্রতিবেদককে বলেন, এই ইট ভাটাটির পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র নেই। ভাটার মালিক মোঃ জাকির হোসেন সিদ্দিকী (জুয়েল) ছাড়পত্রের জন্য গত ২০/১০/২০১৬ তারিখে প্রথমবার আবেদন করেন।

তার আবেদনে কাগজপত্র সম্পূর্ণ না থাকায় তাকে দু’বার চিঠিও দিয়েছি। এছাড়া আমরা ইট ভাটাটি কৃষি জমির উপর স্থাপিত কি-না সে বিষয় যাচাইয়ের জন্য সদর উপজেলা কৃষি অফিসারকে গত ২/৪/২০১৮ ইং তারিখে প্রথমবার এবং চিঠির কোনো জবাব না পাওয়ায় গত ৩১/১২/২০১৮ইং তারিখে দ্বিতীয়বার চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু আজ অবধি সদর উপজেলা কৃষি অফিসার চিঠির কোনো জবাব দেয়নি। কৃষি অফিসার জবাব না দেওয়ায় আমরা ছাড়পত্রের বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে পারিনি।


তিনি আরো বলেন, যেহেতু এই ইট ভাটাটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন সেহেতু এটা অবৈধ বলা যায়। আমরা এই ইট ভাটার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *