ফরিদপুর মৎস প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অফিস সহায়ককে তালিকায় নাম না দেয়ায় মারপিট


জিল্লুর রহমান রাসেল, ফরিদপুর:

ফরিদপুর বর্ধিত পৌরসভার পূর্বগঙ্গাবর্দীতে অবস্থিত মৎস্য প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের অফিস সহায়ক মোঃ খোকন শেখ (খোকা) (৫০) কে প্রশিক্ষণ তালিকায় নাম না দেয়ায় মারধোর ও লাঞ্চিত করার অভিযোগ পাওয়া গেছে স্থানীয় ফিরোজ মোল্লার বিরুদ্ধে।

১৭ই জুন ২০২১ বৃহস্পতিবার আনুমানিক দুপুর ১২ টার সময়ে এ ঘটনা ঘটেছে বলে যানা যায়।

মোঃ খোকন শেখ জানান, ০৪ (চার) দিন যাবত আমাদের অফিসে এলাকাবাসীদের কে মৎস্য চাষ বিষয়ে প্রশিক্ষন প্রদান করা হচ্ছে। প্রশিক্ষনার্থীদের জন্য নাস্তার ব্যবস্থা থাকে প্রতিদিনই। আজ ও স্যারের কথায় অফিসের পাসের বাজার থেকে নাস্তা নিয়ে অফিসে যাচ্ছিলাম, অফিসের গেট পর্যন্ত যাওয়ার পর গেটের সাথেই বাড়ীর ফিরোজ মোল্লা আমাকে ডাক দেয়, এ সময় তার বউ সহ তিন চার জন ছিলো সেখানে।

আমি সরল মনে তার সামনে যাই, এরপর তিনি আমাকে অকথ্য ভাষায় গালি গালাজ করেন এবং বলতে থাকেন আমার লোকজন কে তুই ট্রেনিং এ নিলি না কেন। জবাবে আমি তাকে বলি, আমি নেয়ার কে, আপনি স্যারের সাথে কথা বলেন, এছাড়া আপনারাতো গতকাল ও ট্রেনিং করছেন। এই কথা বলার পরেই সে পাশে থাকা একটি ইট নিয়ে আমার উপর চড়াও হয়, সবাই তার হাত থেকে ইট কেড়ে নেয় এর পর সে আমাকে কিল ঘুষি লাথি মারতে থাকে।

আমি সেখান থেকে দৌড়ে অফিসের গেটে যাই, এর পর প্রিন্সিপাল স্যারকে ফোন দিয়ে ঘটনাটি জানাই, স্যার আমাকে অফিসের ভিতর চলে যেতে বলে, আমি তাই করি, এবং কি ঘটেছে খুলে বলি, স্যার সব কিছু শোনার পরে উপরের স্যারদের বিষয়টি জানান।

ঘটনার কিছুক্ষন সময় পরে পুলিশ আসে, আমার কাছে ঘটনা সম্পর্কে শুনে এবং স্যারের সাথে কথা বলে এর পর আমার থেকে লিখিত একটি অভিযোগ নিয়ে যায় তারা।

এ বিষয়ে প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রধান বিচিত্র কুমার সরকারের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ঘটনা যেটা জানতে পেরেছেন সেটা সঠিক। এ বিষয়ে আমার উপর মহলে জানানো হয়েছে তারাই পরবর্তী পদক্ষেপ নিবেন। এছাড়া ওসি সাহেব তার প্রতিনিধি পাঠিয়েছিলেন, তারা এসে ঘটনা তদন্ত করে গেছেন এবং বিস্তারিত লিখে নিয়ে গেছেন। তবে তিনি মিটমাটের বিষয়ে কোন কিছু বলেননি।

অভিযুক্ত ফিরোজ মোল্লার সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমরা একই এলাকার বাসিন্দা এবং সম্পর্কে আমরা চাচা ভাতিজা। একটা ভুল বুঝাবুঝি হইছিলো। বিষয়টি মিটমাট হয়ে গেছে। মারপিটের কথা জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান, যেহেতু মিটমাট হয়ে গেছে, তাই ওগুলো নিয়ে কোন কিছু লেখার দরকার নাই।

এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম এ জলিলের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সংবাদ পেয়ে পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে গিয়েছিলো। অভিযুক্তের বাসায়ও গিয়েছিলো কিন্তু তাকে পাওয়া যায়নি। প্রতিষ্ঠান প্রধানকে লিখিত অভিযোগ দিতে বলা হয়েছে। অভিযোগ পেলে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবো।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *