ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান লোকমান হোসেন মৃধার দাফন সম্পন্ন


মোঃ ইনামুল হাসান মাসুম:
মহামারী কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. লোকমান হোসেন মৃধা ইন্তেকাল করেছেন। তার বয়স হয়ে ছিলো ৭৭ বছর।
শুক্রবার বেলা ১১টা ৪৫মিনিটের সময় ঢাকায় শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

তিনি ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি ও রেড ক্রিসেন্ড সোসাইটির সভাপতির দায়িত্বে ছিলেন। মৃত্যুর আগে তিনি স্ত্রী, চার পুত্র ও এক কন্যাসহ অসংখ্য আত্মীয় স্বজন, গুনগ্রাহী রেখে যান।
শুক্রবার বিকাল ৬টার দিকে শহরের জেলা পরিষদ চত্বরের রাষ্ট্রিয় মর্যাদায় জানাযা শেষে মরহুমের গ্রামের বাড়ী সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া ইউপির মহিউদ্দিন মৃধার ডাঙ্গীর পারিবারিক কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়।

মুক্তিযোদ্ধা লোকমান হোসেনের মরদেহে শ্রদ্ধা জানান, স্থানীয় এমপি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেনে পক্ষে আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীরা, স্থানীয় সরকার মন্ত্রনালয়ের সচিব হেলালউদ্দিনের পক্ষে জেলা প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন, ফরিদপুর হাই স্কুল, রেড ক্রিসেন্ড, সাহিত্য সংস্কৃতি উন্নয়ন সংস্থা প্রমুখ।

জানাযায় অংশ নেন, রাজবাড়ী জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুর জব্বার ফকির, পুলিশ সুপার মো. আলীমুজ্জামান, পৌর মেয়র শেখ মাহতাব আলী মেথু, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী মো. আব্দুর রশিদ, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মরিুজ্জামান, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুর রাজ্জাক মোল্লা, সদর ইউএনও মোঃ মাসুম রেজা, শহর আওয়ামী লীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম খন্দকার লেভী, অধ্যাপক এম এম সামাদ, অধ্যাপক ডা. আসম জাহাঙ্গীর চৌধুরী টিটো, জেলা পরিষদের সদস্য বৃন্দসহ কর্মকর্তা কর্মচারী।

ফরিদপুরের জেলা প্রশাসক অতুল সরকার বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শুক্রবার বেলা ১১টার সময় তিনি করোনায় আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে মারা যান। তিনি ২০১৭ সালের ২৩ জুন ফরিদপুর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের দায়িত্ব গ্রহন করেন। জেলা প্রশাসক আরো জানান, জেলায় করোনায় এ পর্যন্ত ২৭ জনের মৃত্যু হলো।

প্রয়াত লোকমান হোসেন মৃধার একান্ত সহকারি সচিব রেজাউল কমির মিঠু জানান, গত ২২জুন তার শরীর খারাপ হলে তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে ২৩ জুন তার করোনা ধরা পড়ে।
এর স্যারের শারীরিক অবস্থা আরো অবনতি হলে ২৪জুন ঢাকার শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার শরীরের অবস্থা কিছুটা উন্নতি হয়।
তিনি জানান, বৃহস্পতিবার তার শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে তাকে ভেনটিলেটরের আওতায় নেওয়া হয়।

তার মৃত্যুতে ফরিদপুর -২ আসনের এমপি ও সংসদ উপনেতা সৈয়দা সাজেদা চৌধুরী, ফরিদপুর সদর আসনের এমপি ইঞ্জিনিয়ার খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ফরিদপুর-১ আসনের এমপি মনজুর হোসেন বুলবুল, ফরিদপুর-৪ আসনের এমপি মুজিবুর রহমান নিক্সন চৌধুরী, ফরিদপুর জেলা আওয়ামী লীগ, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, চেম্বর অব কমার্স, আইনজীবী সমিতিসহ বিভিন্ন সংগঠন গভীর শোক জানিয়েছেন।