সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ফরিদপুর সদর উপজেলা একটি রোল মডেল


নিজস্ব প্রতিবেদক:
ফরিদপুর সদর উপজেলা এখন জেলার মডেল উপজেলায় রূপান্তরিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন, সেবাদান ও সরকারি রাজস্ব আয়ে বিশেষ ভূমিকা রাখার পাশাপাশি নাগরিক সেবাদানে জেলার মধ্যে অন্যতম একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে রূপান্তরিত হয়েছে।

এ লক্ষে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছে ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রশাসন। বিশেষ করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ মাসুম রেজা এই উপজেলায় যোগদান করার পরই উপজেলার প্রশাসনিক ভবন আধুনিকীকরন, বিভিন্ন অফিসের ভবন নির্মাণ, উপজেলা পরিষদ শিশু পার্ক নির্মাণ, ৫০০ আসন বিশিষ্ট অডিটোরিয়াম নির্মাণ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব ম্যুরাল স্থাপন, উপজেলা পরিষদ চত্বরকে দৃষ্টিনন্দন করা ও উপজেলা পরিষদের প্রধান গেট নির্মাণ, উপজেলা মসজিদসহ নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড সম্পাদন করায় উপজেলাটি প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে পেয়েছে। এছাড়াও দৃষ্টি নন্দন শহীদ মিনার, পুকুরের সৌন্দর্য বৃদ্ধিসহ আরও বেশ কিছু প্রকল্প চলমান রয়েছে।

মুজিব শতবর্ষে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত ঘোষণা অনুযায়ী দেশের একটি লোকও গৃহহীন থাকবে না-এই দীক্ষা নিয়ে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ করে যাচ্ছে ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রশাসন। সে লক্ষ্যে ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রশাসন কর্তৃক ১ম পর্যায়ে বরাদ্দকৃত ভূমিহীন ও গৃহহীনদের জন্য ৩১২টি ঘর নির্ধারিত ডিজাইন ও প্রাক্কলন অনুযায়ী অত্যন্ত সুষ্ঠু ও সুন্দরভাবে সম্পন্ন করে ভূমিহীন ও গৃহহীনদের পুনর্বাসন করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুত অগ্রাধিকার প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করা হয়েছে। তাছাড়া, গতবছর করোনা ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব মোকাবেলায় উপজেলা নির্বাহী অফিসার দিনরাত জীবনের ঝুঁকি নিয়ে করোনার কারনে কর্মহীন হয়ে পড়া মানুষের মাঝে ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছানোসহ সকল কার্যক্রমে দুর্বার গতিতে ছুটে চলেছেন।

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরনকারী ফরিদপুর শহরের হিন্দু সম্প্রদায়ের এক ব্যক্তির লাশের কাছে যখন তার আত্মীয় স্বজনসহ কোন লোক আসেননি তখন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজের হাতে উক্ত মৃত ব্যক্তির শবদাহ করে মানবতার নজিরবিহীন এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন। তিনি আসার পর থেকে তিনি অতিরিক্ত রাজস্ব আয়েও বিশেষ ভূমিকা রাখছেন।

প্রশাসন সূত্রে আরো জানা যায়, উপজেলায় মোট জলাশয় রয়েছে ১১টি এর মধ্যে একটিতে মামলা থাকায় ১০টি ইজারা দেওয়া হয়েছে, এ বছরে আয় হয়েছে তিন লাখ ছিয়াত্তর হাজার চারশত আশি টাকা। গত বছর জলাশয় থেকে আয় হয়েছিল ২ লাখ ৪২ হাজার ৪২৬ টাকা। সদর উপজেলার ৪৭ টি হাট-বাজার থেকে গত বছর আয় হয়েছিল ১ কোটি ৬৩ লাখ ৫৯ হাজার ৪২৫ টাকা। এ বছর আয় হয়েছে ৪ কোটি ৬৪ লাখ ৭৫ হাজার ৮১৭ টাকা।

পদ্মার বালু উত্তোলন করে বালু বিক্রি থেকে এ পর্যন্ত রাজস্ব আয় হয়েছে ১ কোটি ১ লাখ ৮৭ হাজার ১০ টাকা। এ বছর এ উপজেলা থেকে সর্বমোট সরকারি রাজস্ব আয় হয়েছে ৫ কোটি ৭০ লাখ ৩৯ হাজার ৩০৭ টাকা। যা উপজেলা পরিষদের সকল কর্মকর্তা কর্মচারীর বেতন ও যাবতীয় খরচ বহন করে জাতীয় রাজস্ব আয়ে সহায়ক ভূমিকা রাখছে। এ সকল কর্মযজ্ঞে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে দিনরাত সার্বিক সহযোগিতা করে যাচ্ছে উপজেলা প্রশাসনে কর্মরত সকল কর্মচারীগণ। এদিকে সদর উপজেলা প্রশাসনের কর্মদক্ষতায় সন্তুষ্ট সদর উপজেলার অফিসার ও কর্মচারীবৃন্দ। তারা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কর্মদক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে উপজেলাকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

ভুবেনেশ্বর নদীর বদ্ধ অংশের ইজারা প্রাপ্ত বাবলু কুমার বিশ্বাস বলেন, আমাদের সমিতিতে ২০ জন জেলে সদস্য রয়েছে। এ বছর আমরা দুই লাখ ১০ হাজার টাকায় ইজারা নিয়েছি। আশা করছি, আমরা এ জলাশয়ের আয় দিয়ে আমাদের সমিতির সকল সদস্যর পরিবার ভালোভাবে চলতে পারবো।

আফজাল মন্ডলের গো হাটের ইজারা প্রাপ্ত আরশাদ মন্ডল বলেন, গত বছর এ হাটটির ইজারা দেওয়া হয়েছিল মাত্র ৫৪ হাজার টাকায়। এ বছর আমি ডাক নিয়েছি ৯৬ লাখ টাকায়। হাটটি থেকে অনেক বড় আশা করছি। আমরা লাভবান হবো।

আলিয়াবাদের গদাধর ডাঙ্গির বালুর ইজারাদার আশরাফুল ইসলাম তুহিন বলেন, পদ্মার বালু উত্তোলনে একদিকে পদ্মার প্রাণ ফিরে পেয়েছে। অপরদিকে এলাকার মানুষ করোনার কারনে বেকার হয়ে নানা অসামাজিক কাজে লিপ্ত হচ্ছিল। আমি বালু ইজারা প্রাপ্তির পর স্থানীয় বেকার যুবকরা কাজ পেয়েছে তারা এখন আর অসামাজিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে না। কঠোরভাবে নির্ধারিত বিধিবিধান প্রতিপালন করে উপজেলা প্রশাসন এই নিলাম কার্যক্রম পরিচালনা করছে।

ফরিদপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ মাসুম রেজা বলেন, ফরিদপুরের সুযোগ্য জেলা প্রশাসক অতুল সরকার স্যারের নির্দেশনায় সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনা বাস্তবায়নসহ রাজস্ব আয় বৃদ্ধিতে আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে সদর উপজেলা প্রশাসন। পাশাপাশি জনবান্ধব প্রশাসন নিশ্চিত করতেও আমরা সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়েছি।

এছাড়া সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের সাথে সুসমন্বয়পূর্বক বাংলাদেশের উন্নয়নের অদম্য অগ্রযাত্রার একজন আস্থাভাজন সৈনিক হিসেবে কাজ করতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ ফরিদপুর সদর উপজেলা প্রশাসন। এ ধারা আব্যাহত থাকলে এ উপজেলাটি দেশের অন্যতম রোল মডেল উপজেলায় পরিণত হবে মর্মে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *